দেশজুড়ে

নওগাঁয় মাদরাসা পরিচালনা পরিষদের বৈঠকে বহিরাগতদের হামলা

নওগাঁ সদর উপজেলার চুনিয়াগাড়ী দারুল সুন্নাহ হাফেজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার পরিষদের আলোচনায় বহিরাগতদের হামলায় দুজন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (১২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় মাদরাসার নিজস্ব কার্যালয়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন-পরিচালনা পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক ও চন্ডিপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নকিম উদ্দিন ও তার ছেলে আশিক আরমান শাওন।

মাদরাসা সূত্রে জানা যায়, মাদরাসার প্রধান শিক্ষক আবদুল মান্নানের বিরুদ্ধে নানা রকমের অনিয়মের অভিযোগে শুক্রবার বিকেল ৩টায় পরিচালনা পরিষদের বৈঠক বসে। বৈঠকে নানা বিষয়ে আলোচনা শেষে প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান ওই মাদরাসার চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতিপত্র দিয়ে চলে যেতে চান। অব্যাহতিপত্রটির ব্যাপারে পরবর্তী বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে পত্রটি গ্রহণ করা হবে বলে জানান পরিচালনা পরিষদের সদস্যরা।

বৈঠক চলাকালীন হঠাৎ আব্দুল মান্নান অসুস্থ হয়ে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে একদল বহিরাগত অতর্কিতভাবে মাদরাসা চত্বরে প্রবেশ করে পরিচালনা পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক নকিম উদ্দিন ও তার ছেলে আশিক আরমান শাওনকে এলোপাতাড়ি মারপিট করেন। পরে তাদের মাদরাসার একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন বহিরাগতরা। সেখানে একের পর এক বহিরাগতরা আসতে থাকেন এবং তাদের মারধর করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।

হামলার শিকার নকিম উদ্দিন বলেন, মাদরাসার প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নানের অনিয়মের বিরেুদ্ধে আমি লিখিত অভিযোগ করায় পরিকল্পিতভাবে আমার ও আমার ছেলের ওপর এই হামলা করা হয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি জলিল বলেন, শুক্রবার বিকেলে মাদরাসার কিছু সমস্যা নিয়ে প্রধান শিক্ষকসহ মাদরাসায় বৈঠক বসেছিল। সেখানে আলোচনা শেষে আমি ঘটনাস্থল থেকে চলে আসি। আমি থাকা অবস্থায় সেখানে কোনো ধরনের মারপিটের ঘটনা ঘটেনি।

মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আবু তাহের বলেন, প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত কিছু বিষয় নিয়ে ম্যানেজিং কমিটির আলোচনা শেষে আমি চলে আসি। আলোচনা চলাকালে প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান অব্যাহতিপত্র দিতে চেয়েছেন। আমরা সেটা গ্রহণ করিনি। তবে পরবর্তী সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আলোচনাকালীন সেখানে কোনো ধরনের হামলা বা মারপিটের ঘটনা ঘটেনি।

ঘটনার ব্যাপারে জানতে প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নানের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার স্ত্রী আরজুমান ফোন রিসিভ করেন। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, স্বামী অসুস্থ, কথা বলতে পারছেন না।

আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আলোচনায় তাকে বিভিন্নভাবে মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। চাকরি থেকে অবসর নিতে লিখিত চাওয়া হচ্ছিল বলে চাপ দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে প্রেসার বেশি হয়ে ঘটনাস্থলে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তবে স্বামীকে শারীরিকভাবে মারপিটের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

নওগাঁ সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফজলু হক বলেন, হামলার সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়েছিল। চিকিৎসা দেওয়ার পর তাদের পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

আব্বাস আলী/এসআর/জেআইএম