দেশজুড়ে

কনস্টেবল নিয়োগে ‘স্মার্টকার্ড না থাকায়’ বাছাইয়ে বাদ দেওয়ার অভিযোগ

স্মার্টকার্ড না থাকায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের কনস্টেবল পদে নিয়োগ বাছাই প্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের বাদ দেওয়ায় অভিযোগ উঠেছে।

জেলা পুলিশ লাইন্সে রোববার (১৪ নভেম্বর) দিনব্যাপী বাছাই প্রক্রিয়া শেষে কয়েকজন প্রার্থী সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন।

বাছাইয়ে অংশ নেওয়া সরাইল উপজেলা থেকে আসা সৌরভ সরকার, অপু দাস ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ইমন মিয়া এবং টুটুল দেবনাথসহ কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, স্মার্টকার্ড না থাকার কারণে আমাদের অযোগ্য বলে গণ্য করা হয়েছে। অনলাইন কপি দেওয়ার পরও আমাদের প্রবেশপত্রে অযোগ্য সিল দিয়ে বের করে দেওয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রার্থী বলেন, প্রথম ধাপের পরীক্ষায় আমি উত্তীর্ণ হই। পরে আমার কাছে স্মার্টকার্ড চাওয়া হয়। কিন্তু আমাদের স্মার্টকার্ড দেওয়া হয়নি জানানোর পরও পরবর্তী ধাপে অংশগ্রহণের জন্য সুযোগ দেওয়া হয়নি। আরও অনেককেই স্মার্টকার্ড না থাকার কারণে বের করে দেওয়া হয় বলে শুনেছি।

এ অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, আজ পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে নিয়োগ পেতে ১ হাজার ৪৮৩ জন নারী-পুরুষ প্রার্থী পুলিশ লাইন মাঠে উপস্থিত হন। এরমধ্যে প্রাথমিকভাবে ৫৭৩ জনকে বাছাই করা হয়েছে। অনেকেই তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও সনদপত্রের মূল কপি আনেননি। ফটোকপি দাখিল করায় তাদের বাতিল করা হয়েছে। সময় যাওয়ার পর যদি কেউ মূল কপি আনেন, তাহলে তো আর গ্রহণযোগ্য হবে না। পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পুলিশ হেডকোয়ার্টারের অফিসার ও চিকিৎসকসহ একটি বিশাল টিম কাজ করেছে। অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে এ নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, প্রথম ধাপে শারীরিক উচ্চতা চাহিদা অনুসারে না হওয়া ১১৭ জন পুরুষ ও ১২১ জন নারীকে বাতিল করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে কাগজপত্র ইত্যাদি না আনা ও সঠিক না থাকায় ৫৮৯ জন পুরুষ ও ২৮ জন নারীকে বাতিল করা হয়েছে। এরমধ্যে অনেকেই মূলকপি না এনে সনদপত্র ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি এনেছিল। যা গ্রহণযোগ্য ছিল না। পরবর্তীতে শারীরিক ওজন বেশি ও বুকের মাপ চাহিদা অনুসারে না হওয়ায় ৬৮ জন পুরুষ ও ১৫ জন নারীকে বাদ দেওয়া হয়।

পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান বলেন, প্রথম দিনে বাছাই করা ৫৭৩ জনকে সোমবার চারটি ধাপে উত্তীর্ণ হতে হবে। এগুলো হলো- ২০০মিটার দৌড়, হাই জাম্প, লং জাম্প ও পুশ আপ। এদিন বাছাইয়ে টিকে থাকাদের মঙ্গলবার ১৬০০মিটার দৌড়, ক্লাম্বিং রো ও ড্রেগিংয়ে অংশ নিতে হবে। সেখান থেকে বাছাইকৃতরা লিখিত পরীক্ষায় পাশ করতে হবে। লিখিত পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হবে তাদের ভাইভাতে ডাকা হবে। ভাইবায় উত্তীর্ণ হলে মেডিকেল চেকআপের পর তারা নিয়োগ পাবে।

আবুল হাসনাত মো. রাফি/এসজে/জিকেএস