পরিবারের সঙ্গে অভিমান করে ঢাকা শহরে পাড়ি জমিয়েছে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নাঈম (১০) নামের এক শিশু। সে বর্তমানে ঢাকার মিরপুর-১ বেড়িবাঁধ এলাকার এক রেস্তোরাঁকর্মীর হেফাজতে রয়েছে।
নাঈম কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী পৌরসভার মনিরচর এলাকার ভাঙারি ব্যবসায়ী বাদশার ছেলে। সে উপজেলার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র বলে জানা গেছে।
পরিবার সূত্র জানায়, বুধবার (১৭ নভেম্বর) সকালে শিশু নাইম বাড়ি থেকে একই উপজেলার বেরুবাড়ী এলাকায় তার নানার বাড়িতে যায়। সে সেখান থেকে বাড়ি না ফিরে ঢাকায় চলে যায়। রাত ১টার দিকে গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে তাকে কান্না করতে দেখেন বরিশালের বাসিন্দা ঢাকার মিরপুর-১ বেড়িবাঁধ এলাকার সেয়ারিল্যান্ড রেস্টুরেন্টের কর্মী সবুজ হোসেন। পরে তিনি শিশুটিকে নিজের কাছে রেখে দেন।
সবুজ শিশু নাঈমের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নিয়ে বৃহস্পতিবার (১৮ নভেম্বর) ‘ঐক্যবদ্ধ নাগেশ্বরী’ নামের ফেসবুকের একটি গ্রুপ পেজে ছবি-সম্বলিত একটি পোস্ট দেন। বিষয়টি শিশুটির এলাকাবাসীর নজরে এলে সে খবর পৌঁছে যায় পরিবারের কাছে। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে শিশুটির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন সবুজ।
নাইমের বাবা বাদশা বলেন, ছোট ভাই বাদলের মাধ্যমে জানতে পেরেছি সে ঢাকা শহরে আছে। বাদল তার ছবি ফেসবুকে দেখেছে। আমরা এখনই ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবো। তিনি বলেন, নাইম মাঝে মধ্যে তার নানার বাড়িসহ এলাকার বিভিন্ন স্থানে যায়। বেশিরভাগ সময় আমার কথার অবাধ্য হয়ে চলে। বুধবার সকালে সে তার নানার বাড়ি চলে যায়। পরে শাসনের ভয়ে বাড়ি ফিরে না এসে অভিমান করে ঢাকায় চলে যায়।
শিশু নাঈমকে নিজ হেফাজতে রাখা মিরপুর-১ বেড়িবাঁধ এলাকার সেয়ারিল্যান্ড রেস্টুরেন্টের কর্মী সবুজ হোসেন বলেন, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে চিন্তা করে শিশুটিকে নিয়ে এসে খাবার খাইয়ে যত্নসহকারে নিজের কাছে রেখে দিয়েছি। সে নাকি রাগ করে বাসা থেকে ঢাকায় চলে এসেছে। আমি শিশুটিকে তার পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি। মাসুদ রানা/এসআর/জিকেএস