দেশজুড়ে

সংশয় নিয়ে উৎপাদন শুরু হলো নাটোরের দুই চিনিকলে

নাটোর চিনিকল এবং নর্থ বেঙ্গল চিনিকল দুটির উৎপাদন শুরু হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে ডোঙ্গায় আখ ফেলে নাটোর চিনিকলের আখ মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় আখের অভাবে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই চিনিকল দুটির উৎপাদন বন্ধ এবং কোটি কোটি টাকা লোকসান গুনতে হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Advertisement

সরকারের প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতার অভাব এবং আখচাষিদের হয়রানির কারণে চিনিকল দুটির এই অবস্থা বলে দাবি সংশ্লিষ্ট আখচাষি নেতা ও কর্মকর্তাদের। গত বছরও চাহিদা অনুযায়ী আখের সরবরাহ না থাকায় নির্ধারিত সময়ের আগেই মাড়াইয়ের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ফলে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ চিনি উৎপাদন না হওয়ায় দুটি চিনিকলে লোকসানের বোঝা দাঁড়িয়েছে ৫২ কোটি টাকা। অপরদিকে সময়মতো মূল্য না পাওয়ায় কৃষকরা আগ্রহ হারাচ্ছেন আখ চাষে।

চিনিকল সূত্রে জানা যায়, নাটোর চিনিকলে ৫০ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে তিন হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আখ মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার (৩ডিসেম্বর) বিকেলে ক্যান ক্রাশার মেশিনে আখ ফেলে চলতি মৌসুমের মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের পরিচালক (ইক্ষু উন্নয়ন ও গবেষণা) কৃষিবিদ মো. আশরাফ আলী।

অপরদিকে গত ২৯ নভেম্বর নাটোরের লালপুর নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলে ১২ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আখ মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধন করেন নাটোর-১ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বকুল এবং বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান অপু। চিনি আহরণের গড় হার নির্ধারণ করা হয় ৬.৫০ ভাগ। কিন্তু প্রয়োজনীয় আখের অভাবে চিনিকল দুটির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। কারণ হিসেবে প্রয়োজনীয় সার, বীজ ও কিটনাশক কৃষক পর্যায়ে না পৌঁছানো এবং সময়মতো চাষিদের আখের দাম পরিশোধে ব্যার্থতাকে দায়ী করছেন তারা।

Advertisement

চিনিকল সূত্রে জানা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে নাটোর চিনিকলের আওতাধীন আখের জমি ছিল ১৪ হাজার ৫৮৪ একর। ২০২০-২১ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৫৩৫ একরে। আর একই সময়ে নর্থবেঙ্গল চিনিকলে ২৬ হাজার ৫০ একর জমি কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৫৬৪ একরে।

নর্থবেঙ্গল সুগার মিল শ্রমিক কর্মচারি ইউনিয়নের সভাপতি গোলাম কাউসার ও সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন পিন্টু বলেন, চাষিদের সময় মতো আখের মূল্য পরিশোধ করতে না পারা এবং সার বীজ ও কীটনাশক না দেওয়া আখ চাষ কমে যাওয়ার মূল কারণ।

এমন অবস্থায় আখচাষিদের প্রণোদনার আওতায় আনার পাশাপাশি উন্নতমানের আখ বীজ সরবরাহের মাধ্যমে সংকট নিরসনের দাবি জানান তারা।

আখচাষি নেতা মসলেম উদ্দিন বলেন, গত কয়েক বছর ধরে চাষিরা মিলে আখ দিলেও সময়মতো টাকা পাননি। এছাড়া পূর্বে আখচাষ সম্প্রসারণের জন্য সার বীজ ও কীটনাশক দেয়া হলেও গত বছর তা করা হয়নি। ফলে চাষিরা আখ চাষে নিরুৎসাহিত হয়ে পড়েছেন। ফলে কমছে আখের আবাদ।

Advertisement

নাটোর চিনিকলের মহাব্যবস্থাপক আনোয়ার হোসেন বলেন, একই কারণে গত মৌসুমে নাটোর চিনিকল ৩০ কোটি টাকা লোকসান করেছে। এ বছর লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন তারা।

রেজাউল করিম রেজা/এফএ/এমএস