লালমনিরহাট কালীগঞ্জ উপজেলায় সদ্য সমাপ্ত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে বিজয়ী চেয়ারম্যান প্রার্থীর (নৌকা প্রতীক) সমর্থকের চলাচলের রাস্তা কেটে ও বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় শুক্রবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে কালীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত প্রেমানন্দ রায় (৩০)।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তেঁতুলিয়া গ্রামের মৃত কুঞ্জ বিহারীর পৈতৃক সূত্রে তৈরি করা রাস্তা দিয়ে চলাচল করে প্রেমানন্দের দুই ছেলের পরিবার। তবে রাস্তাটি তার প্রতিবেশী যুধিষ্ঠি বর্মনের জমির পাশ দিয়ে হওয়ায় দু’পক্ষের মধ্য বিরোধ চলে আসছিল।
২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে মৃত কুঞ্জ বিহারীর ছেলে প্রেমানন্দ চলবলা ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের কর্মী ছিলেন। তার প্রতিবেশী যুধিষ্ঠি বর্মন ও তার ছেলেরা ঘোড়া প্রতীকের কর্মী সমর্থক ছিলেন। নির্বাচনে দু’পক্ষ দুই প্রতীকের কাজ করায় আগের রাস্তার দ্বন্দ্ব আরও চরম পর্যায়ে পৌঁছে। নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের বিজয় হলে ক্ষুব্ধ হন ঘোড়া প্রতীকের যুধিষ্ঠির পরিবার।
প্রেমানন্দ রায়ের বাড়ির বাড়ির বাইরে থাকার সুযোগে ৯ ডিসেম্বর দলবল নিয়ে রাস্তাটি কেটে ফেলেন যুধিষ্ঠির ছেলেরা। খবর পেয়ে ছুটে এসে রাস্তা কাটতে নিষেধ করায় প্রেমানন্দকে করেন তারা। পালিয়ে জীবন রক্ষা করেন প্রেমানন্দ। রাস্তাটি কেটে বেড়া ঘিরে চাষাবাদের জন্য প্রস্তুত করে যুধিষ্ঠির পরিবার।
এ ঘটনায় প্রেমানন্দ বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় যুধিষ্ঠি বর্মনকে প্রধান করে ৯ জনের নামসহ অজ্ঞাত আরও ৮০-৯০ জনের নামে একটি লিখিত অভিযোগ দেন।
প্রেমানন্দ রায় বলেন, নৌকার কর্মী হওয়ায় দীর্ঘ ৮০-৯০ বছরের রাস্তাটি নৌকা বিরোধীরা কেটে দিয়ে আমাদের জিম্মি করেছে। তাদের কথায় না চললে জানে মেরে ফেলার হুমকিও দিচ্ছে। আমি ন্যায় বিচার দাবি করছি।
এদিকে, যুধিষ্ঠির ছেলে অভিযুক্ত কার্তিক চন্দ্র বর্মন বলেন, আমাদের জমির মাঝ দিয়ে রাস্তা তৈরি করেছে প্রেমানন্দ রায় পরিবার। এতে জমিটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। তাই ওই রাস্তাটি কেটে দিয়ে জমি ঠিক করেছি। এতে তাদের সমস্যা হয়ে থাকলে, পাশে জমি আছে, তারা প্রয়োজন মনে করলে নিজেদের জমির সঙ্গে যুক্ত করে রাস্তা তৈরি করবেন।
রাস্তা কাটার বিষয়টি নির্বাচনী প্রতিহিংসা নয় বলেও দাবি করেন কার্তিক চন্দ্র বর্মন।
কালীগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রসুল বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রবিউল হাসান/এসজে/এএসএম