দেশজুড়ে

তফসিলের পরও নির্বাচন বাতিল হওয়ায় ক্ষুব্ধ ইউনিয়নবাসী

পঞ্চম ধাপে শরীয়তপুর জাজিরা ও নড়িয়া উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে গত ২৭ নভেম্বর। এরমধ্যে নদী ভাঙনের কারণে কুন্ডেরচর ও পালেরচর ইউনিয়নে সীমানা নির্ধারণ কার্যক্রম চলমান থাকায় ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।

জাজিরা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মঞ্জুর হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী ৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল। আজ ১২ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র বাছাই ও ১৯ ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। ৫ জানুয়ারি এসব ইউনিয়নে ভোট গ্রহণ করার কথা রয়েছে।

তবে জেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার শাখার মাধ্যমে কুন্ডেরচর ও পালেরচর ইউনিয়নে ওয়ার্ড সীমানা নির্ধারণ চূড়ান্ত হলে তারপর নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ওই দুটি ইউনিয়নে পরবর্তী নির্বাচন হবে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জাহিদ হোসেন বলেন, আগামী ৫ জানুয়ারি জাজিরা উপজেলার জয়নগর, কুন্ডেরচর ও পালেরচর ইউপিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে কুন্ডেরচর ও পালেরচর ইউনিয়নে ৫ম ধাপে নির্বাচন হচ্ছে না। তবে পরের ধাপে নির্বাচন কমিশন ওই দুটি ইউনিয়নে নির্বাচন তফসিল ঘোষণা করতে পারে।

খোঁজ নিয়ে যানা যায়, কুন্ডেরচর ইউনিয়নের ৬, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড পদ্মা নদীর গর্ভে চলে গেছে। চারটি ওয়ার্ডের ভোটার ও সাধারণ মানুষ ইউনিয়নের বাইরে বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করছে। তাই ২০২০ সালের ১০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ গেজেটে ওই ওয়ার্ডগুলো সীমানা পূনর্নির্ধারণী প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়। এছাড়া ২, ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডে অন্তত ৩০০ পরিবারের ভিটামাটি পদ্মা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। তাই ভোটারদের বর্তমান অবস্থানের কারণ ও ভোটার তালিকা পুনর্বিন্যাস জটিলতা, ভোটকেন্দ্র করার জটিলতা আছে। তাই কুন্ডেরচর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. সালাউদ্দিন ব্যাপারী প্রধান নির্বাচন কমিশন, জেলা প্রশাসক, ফরিদপুর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, জেলা নির্বাচন অফিস, জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর ভোটার তালিকা পূনর্বিন্যাস করে তারপর নির্বাচন করার জন্য আবেদন করেছেন।

এদিকে কুন্ডেরচর ইউনিয়নবাসী সদ্য প্রকাশিত গেজেট বাতিল করার ষড়যন্ত্রকারী ও নির্বাচন বানচালকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভা করেছেন। রোববার (১২ ডিসেম্বর) সকাল ৯টার দিকে বিলাসপুর ইউনয়নের সখিকাজির মোড়ে এ সভা করা হয়।

এ সময় কুন্ডেরচর ইউনিয়নের আবুল বাশার আল আজাদ, আব্দুর রব মোল্লা, মেম্বার কামাল মাদবর, শামসুদ্দিন মোল্লা, আকতার হোসাইন ব্যাপারী, সিরাজ ব্যাপারীসহ পাঁচ শতাধিক লোক উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তারা বলেন, ২৭ নভেম্বর তফসিল ঘোষণা হয়। দীর্ঘদিন ১১ বছর পর কুন্ডেরচর ইউনিয়নে নির্বাচন হবে শুনে আনন্দে উদ্বেলিত হয়েছিলাম আমরা। আমাদের চারটি ওয়ার্ড যাতে হারিয়ে যায় ও আমাদের ভোটাধিকার না থাকে তাই তফসিল ঘোষণার পরপর চক্রান্তকারীরা চক্রান্ত করে তফসিল বাতিল করেছে। তাই আমরা চক্রান্তকারী, ষড়যন্ত্রকারী ও নির্বাচন বানচালকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভা করেছি।আমরা দ্রুত কুন্ডেরচর ইউনিয়নে নির্বাচন চাই।

ছগির হোসেন/এফএ/জেআইএম