দেশজুড়ে

প্রেমের অপবাদে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা, গ্রেফতার ১

নওগাঁর মান্দায় প্রেমের অপবাদে স্কুলছাত্রীকে নির্যাতন ও আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে ছয়জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। রোববার (১৯ ডিসেম্বর) রাতে রুহুল আমিন ওরফে সাদ্দাম (২৫) নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এর আগে শনিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে বাদী হয়ে মান্দা থানায় মামলাটি করেন নিহত স্কুলছাত্রীর বাবা ছলিম উদ্দিন শাহ।

নিহত স্কুলছাত্রী শামসুন্নাহার বেবি মান্দা সদর ইউনিয়নের খাগড়া উত্তরপাড়া গ্রামের সলিম উদ্দিন শাহের মেয়ে। সে মান্দা এসসি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

গ্রেফতার সাদ্দাম উপজেলার সদর ইউনিয়নের কয়াপাড়া গ্রামের আবদুল আজিজ শাহের ছেলে।

নিহত স্কুলছাত্রীর পরিবার ও থানা সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে প্রতিবেশী মোজাফফর হোসেনের মেয়ে রীমা বেগম কৌশলে সামসুন্নাহার বেবিকে তাদের বাড়িতে ডেকে নেন। এসময় ওই বাড়িতে কয়াপাড়া গ্রামের বজলুর রহমানের মেয়ে সুইটি বেগম, তার মা আনজুয়ারা বেগম, রিমার স্বামী রুহুল আমিন ওরফে সাদ্দামসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। তারা কুসুম্বা দিঘিরপাড়া গ্রামের চয়নুল ইসলামের ছেলে শামীম হোসেনের সঙ্গে মোবাইলে প্রেমের অপবাদ এনে শামসুন্নাহার বেবিকে নির্যাতন করেন। শামসুন্নাহার বাড়ি গিয়ে বিষয়টি তার পরিবারকে জানায়। এনিয়ে উভয় পরিবারের নারীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও ঝগড়া হয়। পরে অপমান সহ্য করতে না পেরে সবার অগোচরে কীটনাশক পান করে সে। বিষয়টি টের পেয়ে প্রথমে তাকে উদ্ধার করে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুরে সে মারা যায়।

নিহত স্কুলছাত্রীর বাবা ছলিম উদ্দিন শাহ বলেন, তার মেয়ের সঙ্গে শামীম হোসেন নামের এক যুবকের সম্পর্ক আছে বলে মিথ্যা অভিযোগ এনে নির্যাতন করা হয়। পরে ক্ষোভের বসে সে কীটনাশক পান করে আত্মহত্যা করে। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।

মান্দা থানার ভারপ্রাাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর রহমান বলেন, গ্রেফতার সাদ্দামকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

আব্বাস আলী/এসআর/এমএস