নওগাঁর বদলগাছীতে পাওনা টাকা চাওয়ায় কাঁচি দিয়ে খুঁচিয়ে মেহেদী হাসান লিওন (৩৫) নামে এক যুবককে হত্যা করা হয়েছে।
বুধবার (২২ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার বালুভরা ইউনিয়নের পালশা দক্ষিনপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।
আটকরা হলেন- পালশা দক্ষিণপড়া গ্রামের এছাহাক আলীর স্ত্রী খুরসিদা বেগম ও তার ছেলে স্বাধীন (২৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বালুভরা ইউনিয়নের পালশা উত্তরপাড়া গ্রামের মেহেদী হাসান একই গ্রামের দক্ষিণপাড়ার এছাছাক আলীর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকায় কিছু জমি বন্ধক নিয়ে চাষাবাদ করছিল। পরবর্তীতে ওই জমির ওপর অতিরিক্ত আরও ৩০ হাজার টাকা নেয় এছাহাক। জমি বন্ধক নেওয়ার সময় মেহেদী হাসান জমির মালিক এছাহাককে বলেছিলেন কখনো বিক্রি করলে তাকে যেন জানানো হয়।
সম্প্রতি ওই জমি মেহেদী হাসানকে না জানিয়ে এছাহাক আলী আরেকজনের কাছে বিক্রি করার উদ্যোগ নেন। বিষয়টি জানার পর মেহেদী হাসান ও তার ভগ্নিপতিসহ সকাল সাড়ে ৬ টার দিকে এছাহাকের বাড়ি যান। এ সময় মেহেদী হাসান জমি বন্ধকের পাওনা টাকা ফেরত চান।
এছাহাক আলী টাকা পরে দিবে বলে তাকে সাফ জানিয়ে দেন। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। এ সময় এছাহাক তার স্ত্রী, ছেলে আসমাউল হুমায়ন ও ছোট ছেলে স্বাধীনকে ডাক দেন। এক পর্যায়ে তারা কাঁচি দিয়ে মেহেদী হাসানের পেটের নিচে আঘাত করেন।
মেহেদী হাসানের রক্তক্ষরণ শুরু হলে তাকে উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মেহেদী হাসান মারা যান। ঘটনার পর থেকে এছাহাক ও তার বড় ছেলে আসমাউল হুমায়ন পলাতক। পুলিশ এছাহাক আলীর স্ত্রী খুরসিদা বেগম ও ছোট ছেলে স্বাধীনকে আটক করে থানায় নিয়েছে।
বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুজনকে আটক করা হয়েছে।
আব্বাস আলী/এসজে/এএসএম