‘আমিই বাংলাদেশ’ শীর্ষক সম্মাননা পেয়েছেন শরীয়তপুরের সেই অদম্য রুপা রানী দে। একইসঙ্গে আরও ৫০ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
বুধবার (২২ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনের বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল চত্বরে প্রধান অতিথি হিসেবে এ সম্মাননা তুলে দেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) পারভেজ হাসান।
জেলা প্রশাসক বলেন, সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্নের বীজ ভবিষ্যতের কাণ্ডারিদের মধ্যে বপন করাই এই সম্মাননার উদ্দেশ্য। যাতে করে আজকের শিক্ষার্থীরা সুনাগরিক ও মানবসেবক হিসেবে তাদের পদচিহ্ন রেখে যেতে পারে উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে।
তিনি আরও বলেন, আমি উদ্যোগটি নিয়েছি এ কারণে যে, রাষ্ট্রনায়কের অধীনে আমরা কাজ করছি। তিনি ভিশন নিয়ে কাজ করেন। তিনি আগামী দিনের স্বপ্ন আজ দেখানোর সক্ষমতা রাখেন। সেই স্বপ্নের পেছনে আপামর জনগণকে নিয়ে ছুটে চলার সক্ষমতাও রাখেন। ২০২১ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশ আমরা গড়েছি। ২০৩০ সালে এসডিজির সব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য আমরা ছুটে চলেছি। ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্নে আমরা বিভোর হয়েছি।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার এসএম আশরাফুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তৌসিফ আহমেদ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনদীপ ঘরাই, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দে, এনডিসি মো. পারভেজ প্রমুখ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, হজরত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনাল, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মজিদ জরিনা ফাউন্ডেশন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (অনুর্ধ্ব-১৭) অধিনায়ক, শরীয়তপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীসহ অদম্য সংগ্রামী রুপা পেল কৃতী সম্মাননা।
ছোটবেলায় বাবা-মাকে হারান রুপা রানী দে। এরপর তাদের তিন বোনের দায়িত্ব পড়ে চাচা-ফুফুর ওপর। তাতেও ঘটে বিপত্তি। এক সময় সংসারে উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন চাচাও অক্ষম হয়ে যান। সেই থেকে এক হাতে বই অন্য হাতে সংসারের হাল ধরেন ‘অদম্য’ রুপা।
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ডিঙ্গা-মানিক গ্রামের মৃত পরেশ চন্দ্র দে ও মৃত ঝর্ণা রানী দের মেয়ে রুপা রানী দে। নড়িয়া সরকারি কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী তিনি। অভাব-অনটনের মধ্যেও তিনি এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষায় সুনামের সঙ্গে পাস হয়।
৩ ডিসেম্বর তাকে নিয়ে ‘গল্পটা ‘অদম্য’ রুপার শিরোনামে জাগোনিউজ২৪.কম-এ একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।
সম্মাননা পাওয়া রুপা রানী দে বলেন, এ রকম সম্মাননা পাওয়া সত্যিই আনন্দের এবং সম্মানের। এতে আমার পড়ালেখা ও আগামীতে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগাবে।
মো. ছগির হোসেন/এসজে/জিকেএস