কক্সবাজারের রামুতে সাংবাদিক সুনীল বড়ুয়ার হারিয়ে যাওয়া ৪০ হাজার টাকা কুড়িয়ে পেয়ে ফিরিয়ে দিলো দুই শিক্ষার্থী। এ টাকা ফেরত দিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও প্রচারণা চালায় তারা।
অবশেষে বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) কুড়িয়ে পাওয়া টাকা ফেরত দিতে পেরে আনন্দিত তারা। ওই সাংবাদিকের পক্ষে সাংবাদিক সোয়েব সাঈদ ও ওবাইদুল হক নোমান হারিয়ে যাওয়া টাকা বুঝে নেন। এ সময় কলঘর বাজারের ব্যবসায়ী কলিম উল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।
সততার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী দুই শিক্ষার্থী হলো, রামুর চাকমারকুল ইউনিয়নের মাতবর পাড়া এলাকার পানের দোকানদার মহি উদ্দিনের ছেলে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাজ্জাদুল কবির ইমন ও পার্শ্ববর্তী মিস্ত্রীপাড়া এলাকার নুর আহমদের ছেলে সাইমুম সরওয়ার।
রামুর ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের হাইটুপী গ্রামের বাসিন্দা মাছরাঙ্গা টিভির কক্সবাজার প্রতিনিধি সুনীল বড়ুয়া জানান, ১৯ ডিসেম্বর তিনি ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে তাদের ব্যবসায়িক কাজের ২ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। ওই দিন চৌমুহনী স্টেশনে একটি দোকানে বকেয়া টাকা পরিশোধ করেন এবং রামু উপজেলা পরিষদের সামনে এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করে ফের চৌমুহনী ফেরার সময় তার পকেট থেকে ৪০ হাজার ১৬০ টাকার একটি ব্যান্ডেল অসাবধানতাবশত পড়ে যায়। পরে তিনি ওই সড়ক ও আশপাশে অনেক খোঁজাখুঁজি করে টাকার সন্ধান না পেয়ে বাড়ি ফিরে যান। সুনীল বড়ুয়া আরও জানান, তিনি টাকা পাওয়ার আশা ছেড়ে দেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে জানতে পারেন সাজ্জাদুল কবির ইমন ও সাইমুম সরওয়ার নামে দুই শিক্ষার্থী টাকাগুলো কুড়িয়ে পেয়েছ। পরে প্রমাণসহ যোগাযোগ করলে তারা টাকাগুলো ফেরত দেয়।
এলাকাবাসী জানান, সাজ্জাদুল কবির ইমন ও সাইমুম সরওয়ার দরিদ্র পরিবারের সন্তান। সাজ্জাদুল কবিরের বাবা পানের দোকান করে সংসার চালান আর সাইমুম সরওয়ার পড়াশোনার পাশাপাশি সংসারের জীবিকার তাগিদে ইজিবাইক (টমটম) চালান। দরিদ্র হলেও তারা টাকার প্রতি লোভ করেননি। সততার এমন নজির বর্তমানে বিরল। শিক্ষার্থী সাজ্জাদুল কবির ইমন জানায়, তারা কজন বন্ধু একটি বেসরকারি সংস্থার কম্পিউটার প্রশিক্ষণে যাওয়ার সময় টাকাগুলো পায়। কুড়িয়ে পাওয়া টাকা মায়ের কাছে জমা রেখে প্রকৃত মালিককে ফেরত দেওয়ার জন্য ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়। এখন টাকাগুলো ফিরিয়ে দিতে পেরে তারা আনন্দিত।
সায়ীদ আলমগীর/এসজে/এমএস