টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার এক মাদরাসাছাত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ ও উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে মাদরাসার পরিচালককে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করেছেন স্থানীয় মাতব্বররা। একই সঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ওই মাদরাসা।
শনিবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুরে স্থানীয় মাতব্বরদের উপস্থিতিতে চিনামুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক সালিশ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। মাদরাসা পরিচালকের এমন আচরণ ও এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চিনামুড়া গ্রামে রওজাতুল জান্নাত মহিলা মাদরাসাপড়ুয়া পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন ওরফে তুলা মুন্সী। এমনকি ওই ছাত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর আচরণও (চুম্বন, জড়িয়ে ধরা, খাতায় অশোভন অঙ্গভঙ্গি) করতেন। ঘটনাটি মাদরাসাছাত্রী তার মাকে জানায়। একপর্যায়ে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়। স্থানীয় একটি মহল ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ছাত্রীর পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। শনিবার দুপুরে এলেঙ্গা পৌর মেয়র নুর-এ-আলম সিদ্দিকীর উপস্থিতিতে দেড় লাখ টাকায় বিষয়টি রফা করেন ছবদের কাউন্সিলর ও স্থানীয় কয়েকজন মাতব্বর।
এ বিষয়ে এলেঙ্গা পৌরসভার ৭ নম্বর কাউন্সিলর ও সালিশের মাতব্বর মতিয়ার রহমান খান বলেন, সালিশে অভিযুক্ত মাদরাসা পরিচালক তোফাজ্জল হোসেনকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া মাদরাসাটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত চিনামুড়া গ্রামের রওজাতুল জান্নাত মহিলা মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক তোফাজ্জল হোসেন ওরফে তুলা মুন্সীর সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এলেঙ্গা পৌরসভার মেয়র নুর-এ-আলম সিদ্দিকী জাগো নিউজকে বলেন, ‘মাদরাসার পরিচালক ওই ছাত্রীকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত ও যৌন নির্যাতন করায় সালিশ বৈঠকে তাকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে মাদরাসাটিও বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে কেন জরিমানায় রফা হলো, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘ছোট একটা শিশুর কলঙ্ক আর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’
এ বিষয়ে কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোবাশ্বের আলম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরিফ উর রহমান টগর/এসআর/এএসএম