দেশজুড়ে

নোয়াখালীতে এমপির ভাইয়ের কাছে হারলেন নৌকার প্রার্থী

নোয়াখালীর কবিরহাটের সুন্দলপুর ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. নুরুল আমিন রুমির নৌকাকে দুই হাজার ৪৮০ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে জয়লাভ করেছেন আনারস প্রতীকের বিদ্রোহী প্রার্থী মো. ইলিয়াছ।

জয়ী মো. ইলিয়াছ নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর ভাই। ওই ইউনিয়নে এমপির নিজের বাড়ি অবস্থিত। সেখানে নৌকার পরাজয় নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নির্বাচনী এলাকা কবিরহাটে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতির এ পরাজয় নিয়ে গোটা জেলায় গুঞ্জন চলছে। অনেকে প্রার্থী পছন্দে ‘দুর্বলতার’ কথা বললেও কতিপয় নেতাকর্মীর দাবি, এটা ‘এমপির কারসাজি’।

নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহীন জাগো নিউজকে বলেন, ‘ওই ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থীকে কারসাজি করে হারিয়ে দিয়েছেন এমপি একরামুল করিম চৌধুরী। তিনি নিজের ভাইকে জেতাতে বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে আঁতাত করে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী দিয়ে প্রভাব বিস্তার করেছেন।’

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে এমপি একরামুল করিম চৌধুরীর মোবাইলে বারবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইলিয়াছ (আনারস) পেয়েছেন আট হাজার ১৯২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. নুরুল আমিন রুমি (নৌকা) পেয়েছেন পাঁচ হাজার ৭১২ ভোট। এছাড়া মো. ইব্রাহিম (হাতপাখা) ৫৭০ ভোট ও স্বতন্ত্র মো. আলমগীর হোসেন (চশমা) পেয়েছেন ৩০৬ ভোট।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, সুন্দলপুর ইউনিয়নে মোট ভোটার ২৪ হাজার ৯২জন। এরমধ্যে ১০ কেন্দ্রে ১৪ হাজার ৭৮০ জন বৈধভাবে ভোট দেন। বাতিল ভোটের সংখ্যা ৩৭৩।

চতুর্থ ধাপে রোববার (২৬ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে কবিরহাট উপজেলায় সাত ইউনিয়নের পাঁচটিতে নৌকা ও দুটিতে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন।

নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনে কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ইকবাল হোসেন মজনু/এসআর/এএসএম