কক্সবাজারে ‘স্বামী-সন্তানকে জিম্মি করে এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের’ মামলায় গ্রেফতার তিন আসামির রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকেলে কক্সবাজার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আলমগীর মোহাম্মদ ফারুকী তাদের দুদিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন।
ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. জিল্লুর রহমান জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আসামিদের আদালতে তুলে পাঁচদিন করে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছিল।
রিমান্ডে নেওয়া আসামিরা হলেন- রেজাউল করিম, মামুনুর রশিদ ও মেহিদী হাসান।
রোববার ট্যুরিস্ট পুলিশের এসপি মো. জিল্লুর রহমান বলেন, শনিবার রাতভর অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। নিপীড়িত ওই নারীর জবানবন্দিতে যাদের নাম এসেছে, তাদের মধ্যে তিনজনকে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক রুহুল আমিন জাগো নিউজকে বলেন, এ মামলায় জিয়া গেস্ট ইন হোটেলের ব্যবস্থাপক রিয়াজ উদ্দিন ছোটনকে চারদিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
‘দলবদ্ধ ধর্ষণের’ অভিযোগে ২৩ ডিসেম্বর রাতে এক নারীর স্বামী চারজনের নাম উল্লেখ ও তিনজনকে অজ্ঞাত আসামি করে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলা করেন।
মামলায় নাম উল্লেখ করা চার আসামি হলেন- কক্সবাজার শহরের মধ্যম বাহারছড়া এলাকার আশিকুল ইসলাম আশিক, ইসরাফিল হুদা জয় ওরফে জয়া, মেহেদী হাসান বাবু ও জিয়া গেস্ট ইন হোটেলের ম্যানেজার রিয়াজ উদ্দিন ছোটন।
মামলার মূল আসামি আশিকুল ইসলাম আশিককে মাদারীপুর থেকে গ্রেফতার করার কথা জানিয়েছে র্যাব। আশিকসহ এ মামলায় গ্রেফতার আছেন মোট পাঁচজন।
ওই নারীর অভিযোগ, তাকে শহরের একটি ঝুপড়ি চায়ের দোকানে নিয়ে প্রথমে তিনজন ধর্ষণ করেন। তারপর নেওয়া হয় হোটেল-মোটেল জোনের জিয়া গেস্ট ইন নামের একটি হোটেলে। সেখানে আবারও তাকে ধর্ষণ করেন একজন।
‘দলবদ্ধ ধর্ষণের’ অভিযোগ তোলা নারী গত শুক্রবার কক্সবাজারের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম হামীমুন তানজীনের আদালতে জবানবন্দি দেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, ওই নারী আদালতকে জানান, তার সন্তান জন্মের পর থেকেই অসুস্থ। সন্তানের চিকিৎসার জন্য অন্তত চার লাখ টাকা প্রয়োজন। সেই টাকা জোগাড় করতেই তিন মাস আগে তারা কক্সবাজারে আসেন। কক্সবাজারে তিন মাস ধরে তারা বিভিন্ন হোটেলে রুম ভাড়া করে থাকছেন বলেও জবানবন্দিতে জানান ওই নারী।
অভিযোগকারী নারী এর আগেও কক্সবাজারে ছিলেন বলে প্রমাণ মিলেছে জানান কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান। তিনি বলেন, চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি কক্সবাজার শহরের হোটেল-মোটেল জোনে অভিযান চালিয়ে বেআইনি কাজে জড়িত অভিযোগে ৫৪ জন নারী-পুরুষকে আটক করা হয়। আটকদের মধ্যে ওই নারীও ছিলেন। পরদিন পুলিশের করা একটি মামলায় ২৭ নম্বর আসামি হিসেবে তার নাম আছে। ওই মামলায় ‘মানব পাচার, পতিতালয় পরিচালনা এবং পতিতাবৃ্ত্তি ও সহায়তার’ অভিযোগ আনা হয়। একই মাসের ২৭ তারিখ জামিনে বের হয়ে তিনি আবারও পূর্বের পেশায় যুক্ত হন।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি শেখ মুনীর উল গীয়াস বলেন, তাকে (ওই নারী) যখন আটক করা হয়েছিল তখন তিনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে পুলিশকে জানানো হয়েছিল।
এদিকে প্রধান আসামি আশিকুল ইসলাম আশিকের বিরুদ্ধে এর আগেও ইয়াবা, ছিনতাইসহ নানা অপরাধের অভিযোগে ১৬টি মামলা আছে বলে জানায় জেলা পুলিশ। কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল জোনের পাঁচ শতাধিক হোটেল থেকে প্রতিদিন চাঁদাবাজি করার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
হোটেল মালিকরা বলছেন, চাঁদা না দিলে জিম্মি ও মারধর করত আশিকের বাহিনী। আওয়ামী লীগের স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগ সভাপতির প্রশ্রয়ে আশিক দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, আশিক মূলত ছিনতাইকারী চক্রের নেতা। তবে স্থানীয়রা বলছেন, কক্সবাজারে দলবদ্ধ অপরাধ চক্রের মূল নিয়ন্ত্রক তিনি। তার নেতৃত্বে রয়েছে অন্তত তিন ডজন অপরাধীর একটি চক্র। যারা হোটেল-মোটেল জোনে মাদক বিক্রিসহ চাঁদাবাজি করতেন।
সায়ীদ আলমগীর/এসজে/এমএস