রবিউল আওয়াল রবি, বয়স ৪৩ বছর। প্রথমবার এসএসসি পরীক্ষায় ফেল করায় ২৭ বছর পড়াশুনা থেকে বিরত ছিলেন। এ সময়ে এলাকার জনপ্রতিনিধিও হয়েছিলেন তিনি। এবারের নির্বাচনে অংশ নিয়েও জয় পাননি। তবে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় তিনি পাস করেছেন।
রবিউল আওয়াল জেলার কামারখন্দ উপজেলার নান্দিনামধু গ্রামের মৃত সোহরাব আলী সরকারের ছেলে। সাত ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। তার দুই ভাই সরকারি চাকরি করেন, আরেক ভাই কৃষি কাজ এবং আরও এক ভাই স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রবিউল ১৯৯২ সালে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অন্যান্য সব বিষয়ে লেটার পেলেও গণিতে ২৮ নম্বর পেয়ে অকৃতকার্য হন। রাগে তিনি আর পরবর্তীতে পরীক্ষায় অংশ নেননি। আবার ৪১ বছর বয়সে এসে ২০১৯ সালে নতুন করে শহিদুল বুলবুল কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হন। অবশেষে ৪৩ বছরে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৪.৬৮ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
এদিকে পড়াশুনা থেকে বিরত থাকার সময়ে রবিউল জামতৈল ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ইউপি মেম্বার নির্বাচিত হন। ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত চতুর্থ ধাপের ইউপি নির্বাচনেও তিনি মেম্বার প্রার্থী হয়েছিলেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কাছে অল্প কয়েক ভোটে হেরে যান তিনি। তবে এসএসসি পাসের আনন্দ নির্বাচনে হারার কষ্টকে দূর করেছে বলে মনে করেন তিনি।
রবিউল বলেন, ভোটে হারজিত আছে। তবে পরীক্ষায় পাসের কারণে আমার সেই কষ্ট খানিকটা লাঘব হয়েছে। বিগত সময়ে যেমন আমি মানুষের পাশে ছিলাম, এখনো তেমনি থাকবো। আর বয়স একটু বেশি হলেও পড়াশোনাটা আমি চালিয়ে যেতে চাই।
শহিদুল বুলবুল কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) আতিকুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, রবিউল ২০১৯ সালে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হন। বয়স যে, কোনো বাধা নয় তা তিনবারের এ জনপ্রতিনিধি কৃতিত্বের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন। এর মাধ্যমে শিক্ষা থেকে ঝড়ে পড়া বয়স্ক ব্যক্তিরা অনুপ্রাণিত হতে পারবে। আমি তার সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল কামনা করি।
এসজে/এএসএম