আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নিজ এলাকা নোয়াখালী-৫ আসনের প্রার্থী হতে চান ডা. এ কে এম জাফর উল্যাহ।
তিনি ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার আত্মীয় (স্ত্রীর বড় ভাই) ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক পরিচালক। বর্তমানে তিনি নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।
ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে এ কে এম জাফর উল্যাহর ছবি সংবলিত একটি শুভেচ্ছা পোস্টার ওবায়দুল কাদেরের নিজ এলাকা কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় শোভা পাচ্ছে।
এতে লেখা আছে, ‘আগামী ২০২৩ সালের সংসদ নির্বাচনে অবহেলিত ও বঞ্চিত কবিরহাট এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার উন্নয়ন এবং শান্তির আবহসৃষ্টির লক্ষ্যে নোয়াখালী-৫ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য হিসেবে পেতে চাই। ডা. এ কে এম জাফর উল্যাহ (কাশেম) ভাই আপনাদের দোয়া ও সমর্থনপ্রত্যাশী।’
নোয়াখালী-৫ নির্বাচনী এলাকাবাসীর পক্ষে পোস্টার সাঁটানো হলেও এটি ডা. এ কে এম জাফর উল্যাহর মনের কথা বলে তিনি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন।
সোমবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে তিনি বলেন, রাজনীতিতে আত্মীয়স্বজন বলতে কিছু নাই। আমি নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৫ আসনের প্রার্থী হওয়ার জন্য মনস্থির করেছি।
তিনি দাবি করেন, বিগত জেলা পরিষদ নির্বাচনে যারা আমার বিজয় ঠেকিয়েছিল তারা এবার সংসদ নির্বাচনে আমার প্রার্থিতা ঠেকাতে পারবে না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কবিরহাট উপজেলার ১ নম্বর নরোত্তমপুর ইউনিয়নের জাদবপুর গ্রামের মৃত মাস্টার তাজুল ইসলামের বড় ছেলে ডা. এ কে এম জাফর উল্যাহ। তার ছোট ভাই এ কে এম সিরাজ উল্যাহ ওই ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান।
‘বেয়াই’ ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণার বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচিত হচ্ছে। সবার একটাই কথা সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এতদিন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা প্রয়াত ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও এবার নিজের বেয়াইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছেন।
নোয়াখালী-৫ আসনে ১৯৯৬ সালে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে হারিয়ে প্রথম সংসদ সদস্য হন ওবায়দুল কাদের। ২০০১ সালে হেরে গেলেও ২০০৮ সালে জয়ী হয়ে বিগত তিন সংসদের টানা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।
ইকবাল হোসেন মজনু/এসজে/এমএস