দেশজুড়ে

পাবনায় হত্যা মামলায় চারজনের যাবজ্জীবন

১৫ বছর আগে শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে গিয়ে খুন হয়েছিলেন রফিকুল ইসলাম (৩৫)। ওই হত্যা মামলায় চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৪ জানুয়ারি) বিকেলে পাবনার বিশেষ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আহসান তারেক এ রায় দেন।

নিহত রফিকুল ইসলাম (৩৫) সাঁথিয়া উপজেলার নন্দনপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর মহল্লার শাহজাহান আলীর ছেলে।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সাঁথিয়ার নন্দনপুর ইউনিয়নের মাহমুদপুর গ্রামের হাবিবর মুন্সির ছেলে ওয়াসিম মুন্সি (৩৯), নন্দনপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে মোস্তফা (৪২), গোবিন্দপুর গ্রামের খাজু মন্ডলের ছেলে মিরাজুল ইসলাম (৪৩) ও গোবিন্দপুর গ্রামের ফয়জাল হোসেনের ছেলে শাহাদুল শাহাদত (৩৯)।

রায়ের সময় শাহাদত ও ওয়াসিম আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অপর দুজন এখনো পলাতক রয়েছেন। তাদের প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। হত্যার সঙ্গে জড়িত প্রমাণিত না হওয়ায় বাকি ১৯ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালের ১৯ অক্টোবর দুপুরে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পার্শ্ববর্তী সুন্দরকান্দি গ্রামে শ্বশুর আনছার আলীর বাড়িতে পরিবারসহ বেড়াতে যান রফিকুল। ঈদের আগের রাতে গ্রাম্য রাজনীতির নগ্ন হামলার শিকার হন রফিকুল। তাকে ডেকে নিয়ে শ্বাসরোধ ও কুপিয়ে হত্যা করে একটি ধানক্ষেতে মরদেহ ফেলে পালিয়ে যান আসামিরা। পরের দিন সকালে মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

এরপর ২০০৬ সালের ২৬ অক্টোবর ২৫-৩০ জনের নাম উল্লেখসহ আরও অজ্ঞাত কয়েকজনের নামে সাঁথিয়া থানার এসআই আজিজুর রহমান একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে ২৩ জনের নামে চার্জশিট দাখিল করা হয়। পুলিশ ফোনের কল লিস্ট ধরে তদন্ত করে আসামিদের গ্রেফতার করে। দীর্ঘ শুনানির পর মঙ্গলবার আদালত হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ও পরিকল্পনাকারী চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। বাকিদের খালাস দেওয়া হয়।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সনৎ কুমার ও অ্যাডভোকেট তৌফিক ইমাম খান বলেন, তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী দেওয়ান মজনুল হক বলেন, এই মামলায় অপরাধীদের অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে।

আমিন ইসলাম জুয়েল/এআরএ