দেশজুড়ে

৪৫ বছর পর লটপটিয়া গ্রামে খুশির বন্যা

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের লটপটিয়া গ্রামে খুশির জোয়ার বইছে। দীর্ঘ ৪৫ বছর পর ওই গ্রামের ব্যবসায়ী মো. শাজাহান ইউপি মেম্বার নির্বাচিত হয়েছেন। বুধবার (৫ জানুয়ারি) রাতে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন ফলাফলের তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, নির্বাচনে ৮নং ওয়ার্ডে মো. শাজাহান ৩৩১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোরগ প্রতীকে হুমায়ুন কবির পেয়েছেন ২৭৩ ভোট। সদ্য সাবেক মেম্বার মো. হোসেন পেয়েছেন ২৪৫ ভোট।

জানা গেছে, খিলপাড়া ৮নং ওয়ার্ডটি লটপটিয়া, বাদুলী ও মোল্লাপত্তন এই তিন গ্রাম নিয়ে গঠিত। দীর্ঘদিন বাদুলী ও মোল্লাপত্তন গ্রামের মেম্বার নির্বাচিত হলেও লটপটিয়া গ্রামের কেউ মেম্বার হতে পারেননি। ফলে গ্রামটি অবহেলিত বলে দাবি ছিল এলাকাবাসীর।

এবারের নির্বাচনে লটপটিয়া গ্রামের হাওলাদার বাড়ির আবুল কাশেমের বড় ছেলে মো. শাজাহানকে মেম্বার নির্বাচিত করতে পেরে আনন্দিত পুরো গ্রামের মানুষ।

ওই গ্রামের বৃদ্ধ মো. জয়নাল আবেদীন (৭৫) জানান, জীবনের শেষ বয়সে এসে নিজের গ্রামের একজন মেম্বারকে নির্বাচিত করতে পেরেছি। এবার মরেও শান্তি পাবো। এটা এই গ্রামের মানুষের বহুদিনের আকাঙ্ক্ষা ছিল। আল্লাহ তাদের মনের আশা পূরণ করেছেন।

জয়ী মেম্বার মো. শাজাহান জাগো নিউজকে বলেন, আমি লটপটিয়া গ্রামের বাসিন্দা হলেও আমার ওয়ার্ড তিনটি গ্রামকেই সমান চোখে দেখে জনগণের সেবা করে যাবো। আমি ভোটারদের কাছে কৃতজ্ঞ।

খিলপাড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আগেই নির্বাচিত হন। বুধবার এই ইউনিয়নে শুধু মেম্বার পদে ভোট অনুষ্ঠিত হয়।

৪৫ বছর পর ইউপি নির্বাচনে নিজেদের প্রার্থী সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন গোটা গ্রামের মানুষ।

প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা সোমপাড়া কলেজের বাংলা প্রভাষক মো. আমিনুল এহছান বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে এই ফলাফল ঘোষণা করেন।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকির হোসেন জানান, সকাল থেকে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে।

ইকবাল হোসেন মজনু/এফএ/এএসএম