দেশজুড়ে

বিএসএফের গুলিতে যুবক নিহত, নো-ম্যান্স ল্যান্ডে পড়ে আছে মরদেহ

নওগাঁর সাপাহারে হাঁপানিয়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে মকবুল হোসেন ওরফে সানাউল্লাহ নামে এক গরু ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার ভোরে উপজেলার হাঁপানিয়া সীমান্তের ২৩৬নং পিলারের ১এস (মেইন পিলার) এর কাছে এ ঘটনা ঘটে।

৩০ বছর বয়সী মকবুল হোসেন উপজেলার গোয়ালা ইউনিয়নের কৃষ্ণসদা পূর্বপাড়া গ্রামের আলাউদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাতে মকবুল হোসেনসহ কয়েকজন গরু ব্যবসায়ী হাঁপানিয়া সীমান্তের কৃষ্ণসদা এলাকা দিয়ে ভারতে গরু নিতে যান। তারা গরু নিয়ে শনিবার ভোরে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় ভারতের পান্নাপুর ৬৯ বিএসএফ’র টহলরত জোয়ানরা টের পেয়ে তাদের উদ্দেশ্য করে গুলি ছোড়ে।

এ সময় অন্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও ভারতের ২০০ গজ অভ্যন্তরে মকবুল হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। মরদেহটি ভারতীয় কাঁটাতারের বেড়া ঘেঁষে নো-ম্যান্স ল্যান্ডের ভারত ভূখণ্ডে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

১৬ বিজিবি হাঁপানিয়া ক্যাম্প কমান্ডার আব্দুল আজিজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ বিষয়ে ভারতের পান্নাপুর ক্যাম্পে পতাকা বৈঠকের জন্য একটি বার্তা পাঠানো হয়েছে।

এদিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন জানিয়েছে, শনিবার ভোরের দিকে (আনুমানিক ৫টা ৪৫ মিনিট) পান্নাপুর সীমান্ত চৌকির কমান্ডার টহলরত অবস্থায় বিওপির কার্যসীমার মধ্যে (সীমান্ত পিলার নম্বর ২৩৬ এর কাছে, চৌকি থেকে প্রায় ১.২ কিলোমিটার দূরে) আন্তর্জাতিক সীমার দুই অংশেই সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করেন। সীমান্তের বেড়ার দুই পাশেই চোরাচালানিরা জড়ো হন। সেখানে ভারতীয় চোরাচালানিরা গবাদিপশু সীমান্তের অন্য পাশে পাচার করছিলেন।

ভারতীয় হাইকমিশন আরও জানায়, তিনি (পান্নাপুর সীমান্ত চৌকির কমান্ডার) দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের চ্যালেঞ্জ করলে চোরাকারবারিরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ করতে শুরু করেন। পরিস্থিতি টের পেয়ে তিনি দুই রাউন্ড গুলি ছুড়লে চোরাকারবারিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে দুটি গবাদিপশু জব্দ করা হয় এবং সেখানে রক্তের দাগও দেখতে পাওয়া যায়। আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে প্রায় ২০ মিটার দূরে একজন চোরাকারবারির গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার হয়।

মরদেহটি নওগাঁর সাপাহার উপজেলার আলাদীপুরের কৃষ্ণসদা গ্রামের বুধু হোসেনের ছেলে মকবুল হোসেনের বলে জানা যায়। এ ব্যাপারে বিজিবির কমান্ড্যান্টের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মরদেহ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। হাবিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। মরদেহ পুলিশি প্রক্রিয়া সম্পাদনের জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছে ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন।

আব্বাস আলী/এফএ/এসআর/এমএস