মুন্সিগঞ্জ সদরের পঞ্চসার এলাকা থেকে মৃধুল সূত্রধর (২৬) নামে এক কোচিং শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৮ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃধুল স্থানীয় সূত্রধর এলাকার সুমন সূত্রধরের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃধুল ও তার বন্ধু সঞ্জয় যৌথ অংশীদারিত্বে এলাকায় একটি কোচিং সেন্টার পরিচালনা করে আসছিলেন। সম্প্রতি তাদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে শুক্রবার রাতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আলমগীর খান ও ইউপি সদস্য মামুনসহ এলাকার কয়েকজন সালিশ বৈঠকে মৃধুলকে ১ লাখ টাকা জরিমানা ও হেনস্তা করেন। বিচারের পর বাসায় না ফিরে রাতে কোচিং সেন্টারেই ছিলেন মৃধুল।
শনিবার সকালে ওই কোচিংয়েই তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান পরিবারের লোকজন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।
মৃধুলের পরিবারের অভিযোগ, কোচিং ব্যবসার অংশীদার বন্ধুর সঙ্গে ঝগড়ার জেরে বিচার সালিশে মৃধুলকে ১ লাখ টাকা জরিমানা ও হেনস্তা করা হয়। এতে অপমান সইতে না পেরে শনিবার দিনগত রাতে সূত্রধরপাড়ায় অবস্থিত তার কোচিং সেন্টারে আত্মহত্যা করে সে।
এদিকে ঘটনার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাসও দিয়েছিলেন মৃধুল। যেখানে তিনি উল্লেখ্য করেন, ‘এ কেমন বিচার? বাদী, বাদীপক্ষ, বিচারক এবং এ বিচার ব্যবস্থাকে ধিক্কার!!’
এ নিয়ে কথা হলে মৃধুলের বাবা সুমন সূত্রধর বলেন, ‘১ লাখ টাকা জরিমানা দেওয়ার সামর্থ্য আমদের নেই। তাই অপমান সইতে না পেরে রাতের কোনো এক সময় কোচিংয়ে আত্মহত্যা করেছে মৃধুল। ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাচ্ছি।’
সালিশের বিষয়টি স্বীকার করলেও আর কিছু বলতে রাজি হননি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আলমগীর খান, ইউপি সদস্য মামুন।
এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক জাগো নিউজকে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে কোচিং শিক্ষকের মরদেহের উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার করেছে বলে জানা গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার পার্টনারের সঙ্গে ঝামেলা ছিল বলে জেনেছি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরাফাত রায়হান সাকিব/এসজে/এমএস