সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি মৎস্য ও বনজ সম্পদের উন্নয়নের স্বার্থে বনবিভাগের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের খালে মাছ ধরার অনুমতি দেওয়ার প্রথা বন্ধ করা হয়েছে। পটুয়াখালী জেলা পরিবেশ ও বন উন্নয়ন কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত বছরের নভেম্বরে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলেও সম্প্রতি এতথ্য জানা গেছে। ফলে খালে বিষ প্রয়োগ করে অবৈধভাবে যে মাছ শিকার করা হতো তা বন্ধ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সরকারের রাজস্ব আহরণের জন্য সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মধ্যের খালগুলোতে জেলেদের বৈধ জাল দিয়ে মাছ শিকারের অনুমতি দিতো বনবিভাগ, যা স্থানীয়ভাবে ‘পাস পারমিট’ নামে পরিচিত। এ সুযোগে বনবিভাগের অনুমতিপত্র নিয়ে অসাধু প্রভাবশালী চক্র স্থানীয় জেলেদের কাছে খাল ইজারার নামে মোটা অংকের টাকা নিতো। জেলেরাও সেই টাকা তুলতে খালগুলোতে বিভিন্ন ধরনের বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার করতেন। এতে খালে সব ধরনের মাছ মরে ভেসে উঠতো। এটা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। এরই ধারাবাহিকতায় ‘পাস পারমিট’ প্রথা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় বনবিভাগ।
পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লা এমদাদুল্যাহ জানান, পটুয়াখালী জেলার সোনারচর, চর কলাগাছিয়া, চর আন্ডা, চর তাপসী, চর লক্ষী, চর কাসেম, চর তুফানিয়াসহ বেশ কিছু চরে বনবিভাগের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মধ্যের খালগুলোতে অসাধু জেলেরা বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার করে আসছিলেন। ২০২১ সালের ২৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় তিনি বিষয়টি উপস্থাপন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত জেলা পরিবেশ ও বন উন্নয়ন কমিটির সভায় এ বিষয়ে আলোচনা শেষে খালে মাছ শিকারের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ফলে মৎস্য সম্পদের উন্নয়নের পাশপাশি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সরকারের রাজস্ব আহরণের জন্য বনবিভাগ এসব খালে মাছ শিকারের অনুমতি দিলেও রাজস্বের থেকে পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি ছিল। বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরার ফলে জীববৈচিত্র্যগত ক্ষতি অনেক বেশি হচ্ছিল। এ কারণে জেলা পরিবেশ ও বন উন্নয়ন কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, রাজস্ব আহরণের চেয়ে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যগত ক্ষতির বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আব্দুস সালাম আরিফ/এসআর/এএসএম