রাজনীতি

নারায়ণগঞ্জের নির্বাচন নিয়ে চা দোকানি হুমায়ুনের ভাবনা

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে কে জিতবে, সেলিনা হায়াৎ আইভী নাকি তৈমূর আলম খন্দকার? ভোট কি সুষ্ঠু হবে? সংসদ সদস্য শামীম ওসমান আর আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আইভীর মধ্যে ‘দ্বন্দ্ব’ কি তবে সত্যি মিটেছে? সকাল থেকে মধ্যরাত- এমন নানা প্রশ্ন আর কৌতূহল চলছে নারায়ণগঞ্জসীর মধ্যে। এই নির্বাচনী তর্কবিতর্কের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু শহরের চায়ের দোকানগুলো।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সানারপাড় এলাকায় ভোর থেকে রাত অবধি চা বিক্রি করেন হুমায়ুন কবির। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে তিনি চা বিক্রি করেন। প্রধান সড়ক থেকে সংযোগ সড়কে কিছুটা নেমেই হাতের বাম পাশে তার চায়ের দোকান। তবে নির্বাচনী আমেজ চললেও ভরদুপুর হওয়ায় তার দোকানে সুনসান নীরবতা লক্ষ্য করা যায়।

আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে তার সঙ্গে কথা হয় জাগো নিউজের।

এই প্রতিবেদককে তিনি বলেন, প্রার্থীরা সবাই যার যার অবস্থান থেকে মিটিং-মিছিল করছেন। এ পর্যন্ত কোনো ঝামেলা হয়নি। সামনেও হবে বলে মনে হয় না। আমরা ঝামেলামুক্ত নির্বাচন চাই। তিনি বলেন, ভোটাররা স্থানীয় প্রতিনিধি দেখেই ভোট দেবে। যাদের সবসময় কাছে পাবে তাদের ভোট দেবে, জাতীয় নির্বাচন দেখে তারা ভোট দেবে না।

তিনি বলেন, সুস্থ ও সুন্দরভাবে নির্বাচন হোক এটাই সবার প্রত্যাশা।

স্থানীয়রা জানান, নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে ততই শক্ত লড়াইয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে সব প্রস্তুতির জবাব মিলবে ১৬ জানুয়ারি ভোটের ফলাফলের মধ্যদিয়ে।

এদিকে নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই জমে উঠছে প্রচার-প্রচারণা। প্রার্থী ও সমর্থকরা যাচ্ছেন ভোটারদের কাছে, তুলে ধরছেন নিজেদের পরিকল্পনা। ভোটাররাও শুনছেন তাদের কথা, তরা সিদ্ধান্ত জানাবেন ব্যালটের মাধ্যমে।

বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) শহরের পশ্চিম দেওভোগ এলাকায় গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নৌকার প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী। তিনি বলেন, ভোটের সমীকরণ নৌকার দিকে যাচ্ছে। আগেও ছিল নৌকার পক্ষে, এখনও আছে। ১৬ তারিখ নৌকায় ভোট দেবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি সহিংসতা করি না কাউকে কিছু করতে নির্দেশও দেই না।

অন্যদিকে পুলিশের কার্যক্রমের কারণে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে একটা ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার।

অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, জনগণ ভীত নয়। আমার নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ আছেন। আন্তর্জাতিক দূতাবাসের যারা আছেন, পাশাপাশি মানবাধিকার কর্মী যারা আছেন তাদের সবাইকে বলবো আমার নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে।

নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার শেষে মেয়র পদে ছয়জন, সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডে ৩৪ জন এবং সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ১৪৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন।

মেয়র পদে ছয়জন প্রার্থী হলেন- আওয়ামী লীগের সেলিনা হায়াৎ আইভী, স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার, খেলাফত মজলিসের এবিএম সিরাজুল মামুন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা মো. মাছুম বিল্লাহ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. জসীম উদ্দিন ও বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মো. রাশেদ ফেরদৌস।

কেএইচ/ইএ/এএসএম