প্রশাসনের অনুমতি না মিললেও বুধবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বগুড়ার গাবতলীর ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলা অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে মেলা কর্তৃপক্ষ। তবে মেলার বিশেষ আকর্ষণ বাঘাইড় মাছ এবার বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে সরকার।
গাবতলী উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়নের পোড়াদহ এলাকায় ৪০০ বছর আগে থেকে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। সন্ন্যাসী পূজা উপলক্ষে গাড়ীদহ নদী ঘেঁষে ব্যক্তি মালিকানা জমিতে একদিনের জন্য এই পোড়াদহ মেলা বসে।
একদিনের মেলা হলেও এর রেশ থাকে বেশ কয়েকদিন। বাংলা বছরের মাঘ মাসের শেষ অথবা ফাল্গুন মাসের প্রথম বুধবার এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়। মেলা উপলক্ষে আশপাশের গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন ভিড় জমান। মেলা উপলক্ষে আত্মীয়-স্বজনদের ধুমধাম করে খাওয়ানো অনেকটা রেওয়াজে পরিণত হয়েছে।
পোড়াদহ মেলাকে ঘিরে উপজেলার দুর্গাহাটা হাইস্কুল মাঠ, দাড়াইল বাজারসহ বিভিন্ন জায়গায় মেলা বসে। মেলার আকর্ষণ বড় বোয়াল, কাতলা, রুই, মৃগেল, সিলভার কার্প, বিগহেডসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের মাছ।
মেলার বিশেষ আকর্ষণ থাকে বাঘাইড় মাছ। ১০০ থেকে ১৫০ কেজি ওজনের বাঘাইড় মাছ বিক্রি হয় এ মেলায়। তবে ‘বাঘাইড় মাছ একটি মহাবিপন্ন প্রাণী’ উল্লেখ করে মেলায় এ মাছ বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে বনবিভাগের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন বিভাগ।
পোড়াদহ মেলার অন্যতম আকর্ষণ ১৫ থেকে ২০ কেজি ওজনের মিষ্টি, স্টিল-কাঠের র্ফানিচার, বড়ই, কৃষি সামগ্রীসহ ঘরের হরেক রকমের আসবাবপত্র। থাকে সার্কাস, নৌকা খেলা, মোটরসাইকেল ও গাড়ি খেলা, জাদু ও নাগরদোলার ব্যবস্থা।
পোড়াদহ মেলা কমিটির আয়োজক মহিষাবান ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ মণ্ডল বলেন, জেলা ও পুলিশ প্রশাসন মেলার অনুমতি দেয়নি। আমাদের স্বেচ্ছাসেবকরাই মেলার দায়িত্বে থাকবে।
গাবতলী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, মেলায় কিংবা এর আশপাশে অশ্লীল নাচ-গান, জুয়ার আসর বসানোর চেষ্টা করা হলে তা কঠোর হস্তে দমন করা হবে।
জেলা পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, করোনার কারণে যেহেতু জেলা প্রশাসন কোনো অনুমতি দেয়নি, তাই মেলার দায়িত্ব উদ্যোক্তাদের নিতে হবে। জেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করলে পুলিশ প্রশাসন সহযোগিতা করবে।
বগুড়া জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক বলেন, করোনার দাপটের কারণে পোড়াদহ মেলার অনুমতি দেওয়া হয়নি। এছাড়া এই মেলায় যেভাবে লোক সমাগম হয়, তাতে করোনার স্বাস্থ্যবিধি মানা খুব কঠিন কাজ।
এসআর/এএসএম