শীতের শুষ্ক মৌসুমে আকস্মিক ভারি বৃষ্টিতে নওগাঁয় রবিশস্যসহ চার হাজার ৪৭৪ হেক্টর জমির ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে রবিশস্যসহ ইরি-বোরো ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন চাষিরা। তবে ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে চাষিদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছে কৃষি বিভাগ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, বৃষ্টিতে বোরো বীজতলা এক হেক্টর ও বোরো আবাদ ৩৬৭ হেক্টরের ক্ষতি হয়েছে। জেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে আলুক্ষেত। তিন হাজার ১৫৭ হেক্টর আলুক্ষেত নষ্ট হতে চলেছে। এছাড়া রবিশস্যের মধ্যে রয়েছে- গম ২৩৯ হেক্টর, সবজি ৪৬ হেক্টর, সরিষা ৬৩৭ হেক্টর, পেঁয়াজ ১৩ হেক্টর এবং মশুর ১৪ হেক্টর।
গত বৃহস্পতিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকে শনিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পর্যন্ত নওগাঁর ওপর দিয়ে কয়েক দফা ঝড়ো-হাওয়া ও শিলাবৃষ্টি বয়ে গেছে। এতে জেলার ১১টি উপজেলার বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নওগাঁ সদর উপজেলা, বদলগাছী ও মান্দার কয়েকটি মাঠে গিয়ে দেখা যায় সদ্য রোপণকৃত ইরি-বোরো ধান ডুবে গেছে। এছাড়া রবিশস্যের মধ্যে আলুর ক্ষেতে পানি জমে থাকায় পচন ধরেছে। সরিষা ও পেঁয়াজ ক্ষেতেরও একই অবস্থা।
সদর উপজেলার মধ্যদূর্গাপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রউফ বলেন, গত ১২ দিন আগে দুই বিঘা জমিতে বোরো ধান রোপণ করেছি। যেখানে সার, ওষুধ ও কীটনাশক দেওয়া হয়েছে। ওই জমি থেকে আমি সারা বছর খাওয়ার জন্য ধান পেয়ে থাকি। হঠাৎ করে বৃষ্টি হয়ে সব শেষ। জমিতে যে ধানের চারা রোপণ করা হয়েছিল, তার অধিকাংশই উঠে গেছে। এখন নতুন করে আবারও চারা রোপণ করতে হবে।
বর্ষাইল ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামের আলু চাষি লতিফুর রহমান বলেন, সাড়ে ৪ বিঘা জমিতে দেশীয় জাতের আলুর আবাদ করেছি। চলতি মাসের শেষের দিকে ক্ষেত থেকে আলু ওঠানোর কথা ছিল। কিন্তু কয়েক দফা বৃষ্টি হওয়ায় জমিতে পানি আটকে পড়েছে। পানি জমে থাকায় আলুতে পচন ধরা শুরু করেছে। অপরিপক্ক আলু ওঠানো হচ্ছে। আলু ভালো থাকা নিয়ে এখন দুশ্চিন্তায় পড়েছি। লোকসানের আশঙ্কা করছি।
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শামসুল ওয়াদুদ বলেন, আবহাওয়া এখন অনেকটা ভালো। নতুন করে আর বৃষ্টি না হলে আগামী দু-একদিনের মধ্যে জমিতে আটকে থাকা পানি নেমে যাবে। আশা করছি খুব বেশি ফসলের ক্ষতি হবে না। তবে আলুক্ষেত কিছু ক্ষতি হতে পারে। পানি নিষ্কাশন করতে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, বৃষ্টিতে কিছু ফসলের ক্ষতি হলেও গম ও আমের জন্য আর্শীবাদ স্বরূপ। অসময়ে বৃষ্টিতে রবিশস্যের কিছু ক্ষতি হলেও ফলন বিপর্যয়ের কোনো শঙ্কা নেই। ক্ষতির তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।
আব্বাস আলী/কেএসআর