বাঘাইড় মাছ ছাড়াই এবার বগুড়ার গাবতলীর ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলা বসেছে। প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই বুধবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে এ মেলা। মেলাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় উৎসবের আমেজ তৈরি হয়।
স্থানীয়রা জানান, চারশো বছর আগে বগুড়া গাবতলী উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়নের পোড়াদহ এলাকায় লক্ষ্মীপূজায় এ মেলা বসে। একদিনের মেলায় বিভিন্ন প্রজাতির বড় মাছ, বাহারি পণ্যের শত শত দোকান বসে। প্রতি বছর ফাল্গুন মাসের প্রথম বুধবার মেলার আয়োজন হয়।
মেলার বিশেষ আকর্ষণ বাঘাইড় মাছ এবার বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে সরকার। অনুমতি না থাকায় বেলা ১১টায় বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা মাজিস্ট্রেট সালাউদ্দিন আহমেদ এক ঘণ্টার মধ্যে মেলা বন্ধের নির্দেশ দিলেও সেটি বন্ধ হয় নি।
মেলাকে ঘিরে উপজেলার দুর্গাহাটা হাইস্কুল মাঠ, দাড়াইল বাজার, সাবগ্রাম, অদ্দিরগোলা, পাচমাইল বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে দোকান বসে। বড় বোয়াল, কাতলা, রুই, মৃগেল, সিলভার কার্প, বিগ্র্রেডসহ দেশী-বিদেশি বিভিন্ন জাতের মাছ মেলার বড় আকর্ষণ। মেলায় ২৮ কেজি পর্যন্ত কাতল মাছ বিক্রি হয়েছে।
ভোর থেকে মাছের পসরা সাজিয়ে দোকানে বসেন ব্যবসায়ীরা। দিনভর রুই, কাতলা, মৃগেল, বোয়াল, সিলভার কার্প, বিগহেড, কালবাউস, পাঙ্গাসসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। মেলায় ১৫-২০ কেজি ওজনের রুই, কাতলা, পাঙ্গাশ ৩০০-২০০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয় মাছ।
মেলার আরেক আকর্ষণ বাহারি মিষ্টি। মাছ আকৃতির মিষ্টি, রসগোল্লা, সন্দেশ, জিলাপি, নিমকি, তিলের নাড়ু, খই সবই পাওয়া যায়। দেড় থেকে দুই কেজি ওজনের মিষ্টি পোড়াদহ মেলার অন্যতম আকর্ষণ। ১২ কেজি ওজনের মাছ আকৃতির মিষ্টি ছিল এবার মেলার প্রধান আকর্ষণ।
এছাড়াও মেলার বাহারি ডিজাইনের কসমেটিকস, খেলনা, গিফট সামগ্রী, চুড়ি, কানের দুল, মালা, কাজলসহ নানা ধরনের প্রসাধনী ও খেলনা সামগ্রী পাওয়া যায়। মেলায় পাওয়া যায় কাঠের, স্টিল ও লোহার বিভিন্ন আসবাবপত্র। মেলায় বিনোদনমূলক সার্কাস, নৌকা, মোটরসাইকেল খেলা, জাদু ও নাগরদোলার আয়োজন হয়।
পোড়াদহ মেলা কমিটির সদস্য মহিষাবান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ মণ্ডল জানান, পোড়াদহ মেলা তার নিজস্ব গতিতে চলবে। জেলা ও পুলিশ প্রশাসন মেলার অনুমতি দেয়নি। আমাদের স্বেচ্ছাসেবকরাই মেলার দায়িত্বে রয়েছেন।
গাবতলী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম সিরাজ জানান, মেলায় কিংবা আশপাশে অশ্লীল নাচ-গান, জুয়ার আসর বসানোর চেষ্টা হলে কঠোর হস্তে দমন করা হবে।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী জানান, মেলায় যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনায় দায় উদ্যোক্তাদের নিতে হবে।
বগুড়া জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক জানান, করোনার কারণে পোড়াদহ মেলার অনুমতি দেওয়া হয়নি। এ মেলায় যেভাবে লোক সমাগম হয় স্বাস্থ্যবিধি মানা কঠিন।
আরএইচ/এএসএম