২০১৮ সালে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে হুমকির পর রাতে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন নোয়াখালীর সুবর্ণচরের এক নারী। ওই নারী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচনে ভোট দিতে এসে ফের হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলি ইউনিয়নের নির্বাচনে মধ্যম চরবাগ্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে এসে এ অভিযোগ করেন ওই নারী।
ভুক্তভোগী নারী জাগো নিউজকে বলেন, ‘এবারো চরজুবলি ইউনিয়নের নির্বাচনে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ফুটবল প্রতীকের মেম্বার প্রার্থী আবদুল মালেকের পক্ষে ভোট করতে বলা হয়। তার পক্ষে কাজ না করায় ভোটের পরে আমাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’
তবে কেন্দ্রে নির্বিঘ্নে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন ওই নারী। ভোট দেওয়ার সময় তাকে কেউ বাধা দেয়নি। তবে ভোটের পর পরিস্থিতি কী হবে তা নিয়ে উৎকণ্ঠায় রয়েছেন। এসময় আগের বীভৎসতার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
তবে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন মেম্বার প্রার্থী আবদুল মালেক। তিনি বলেন, ‘আমিও বিএনপি করি সেও (ভুক্তভোগী নারী) বিএনপি করে। তাকে আমি কেন হুমকি দেবো? সে তো আমার দলের লোক। এটা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। আমি তাকে কোনো হুমকি-ধমকি দেইনি।’
এ বিষয়ে চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক বলেন, এ ব্যাপারে ওই নারী আগে কিছুই জানাননি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পছন্দের প্রতীকে ভোট দেওয়ায় ওই গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল। ৩০ জানুয়ারি রাতে দুর্বৃত্তরা ওই গৃহবধূর ঘরে ঢুকে স্বামী-সন্তানকে বেঁধে রেখে তাকে মারধর ও দলবদ্ধ ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর স্বামী নয়জনকে আসামি করে মামলা করেন।
নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূর দাবি, ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা সবাই সাবেক ইউপি মেম্বার রুহুল আমিনের লোকজন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে করা মামলাটি বর্তমানে নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এ বিচারাধীন।
ইকবাল হোসেন মজনু/এসআর/এএসএম