নেত্রকোনায় সাবেক স্ত্রীকে (২৫) ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় মোজাম্মেল হক (৩০) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রোববার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতার মোজাম্মেল মোহনগঞ্জ উপজেলার বড়তলী বানীহারি ইউনিয়নের কুলংকা গ্রামের বকুল খাঁর ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, মোজাম্মেল হকের সঙ্গে ১৪ বছর আগে একই গ্রামের আব্দুল মন্নাফের মেয়ে রানী আক্তারের বিয়ে হয়। তিন মাস আগে দাম্পত্য কলহের কারণে রানী আক্তার মোজাম্মেলকে তালাক দেন। এতে ক্ষুব্ধ হন মোজাম্মেল।
১২ ফেব্রুয়ারি রানী জেলা শহরের সাতপাইস্থ টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পেছনে তার ছোট বোনের ভাড়া বাসায় বেড়াতে আসেন। খবর পেয়ে মোজাম্মেল ছোট বোনের বাসা থেকে কৌশলে রানী আক্তারকে বের করে আনেন। পরে ধারালো ছুরি দিয়ে তার গলা কেটে হত্যাচেষ্টা করেন।
এ সময় রানী আক্তারের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে মোজাম্মেল পালিয়ে যান। স্থানীয় লোকজন রানী আক্তারকে মুমুর্ষূ অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে নেত্রকোনা হাসপাতালে ও পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানেই রানী আক্তার চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
খবর পেয়ে সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানার নেতৃত্বে একটি টিম আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে শনিবার রাত ১০টার দিকে অভিযুক্ত মোজাম্মেল হককে দূর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি থেকে আটক করে।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক মোজাম্মেল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। পরে তার দেখানো জায়গা থেকেই হত্যাচেষ্টায় ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ভিকটিমের বড়ভাই মনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে রোববার দুপুরে মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে একটি হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। বিকেলে তাকে আদালতের জেল হাজতে পাঠানো হয়।
এইচ এম কামাল/এসজে/জিকেএস