দেশজুড়ে

শিক্ষা অফিসের কর্মচারীর বাড়িতে মিললো পিইসির ব্ল্যাঙ্ক সনদপত্র

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে কর্মরত মাস্টার রোলের কর্মচারী মঈন উদ্দিন মনিরের বাড়ির আলমারি থেকে বিপুল পরিমাণ পিইসির (প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা) ব্ল্যাঙ্ক সনদ জব্দ করা হয়েছে। এ সময় সরকারি অফিসের আরও বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজ উদ্ধার করা হয়।

রোববার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে পেকুয়া উপজেলা সদর ইউনিয়নের গোঁয়াখালী উত্তরপাড়া গ্রামে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কর্মচারী মঈন উদ্দিনের বাড়ির একটি আলমারি থেকে এসব সরকারি কাগজপত্র উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।

সূত্র জানায়, গত ১০-১২ বছর ধরে পেকুয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে মাস্টার রোলে অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত মঈন উদ্দিন মনির (২৮)। সম্প্রতি তার সঙ্গে ছোট ভাইয়ের জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব হয়। এর জেরে ছোটভাই অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মনিরের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। সেই মামলায় হাজিরা না দেওয়ায় আদালত মনিরের বাড়ির মালামাল বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেন।

আদালতের নির্দেশমতে ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে পুলিশ মনিরের কক্ষের মালামাল থানায় নিয়ে যায়। মঈন উদ্দিন মনিরের কক্ষের সব মালামাল থানায় নিয়ে গেলেও একটি স্টিলের আলমারি অফিসের দাবি করে তিনি থানায় নিতে দেননি।

পুলিশ বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার পর মনিরের পরিবারের অন্য সদস্যদের মাঝে ওই আলমারি নিয়ে সন্দেহ হলে সেটি খুলে দেখেন। এ সময় ওই আলমারিতে পেকুয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র দেখতে পেয়ে মনিরের ছোটভাই স্থানীয় সংবাদকর্মীদের বিষয়টি জানান।

সংবাদকর্মীরা বিষয়টি ফোনে কক্সবাজার জেলা শিক্ষা অফিসারকে অবহিত করেন। জেলা শিক্ষা অফিসারের নির্দেশে পেকুয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সালামত উল্লাহ খাঁন দ্রুত তার পক্ষে পেকুয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাস্টার হানিফ চৌধুরী ও সহকারী শিক্ষক মো. শাহাব উদ্দিনকে মনিরের বাড়িতে পাঠান। তাদের সঙ্গে যান সংবাদকর্মীরাও।

পেকুয়া উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে পাঠানো প্রতিনিধি দলের প্রধান মাস্টার হানিফ চৌধুরী, এলাকাবাসী ও সংবাদকর্মীদের উপস্থিতিতে মনিরের কক্ষের আলমারি থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীর প্রায় ২২৩ কপি ব্ল্যাঙ্ক সনদপত্র ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কিছু গুরুতবপূর্ণ কাগজপত্র উদ্ধার করেন। উদ্ধারকৃত এসব কাগজপত্রের জব্দ তালিকাও সাক্ষীদের উপস্থিতিতে প্রস্তুত করে শিক্ষা অফিসে নিয়ে যান।

পরে অপেক্ষমান সংবাদকর্মীদের কাছে ব্রিফিংয়ে মাস্টার হানিফ চৌধুরী বলেন, সরকারি অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র কর্মচারীর নিজের হেফাজতে রাখা গুরুতর অপরাধ। এ ঘটনায় সোমবারের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

পেকুয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সালামত উল্লাহ খাঁন বলেন, খবর পাওয়া মাত্রই শিক্ষা অফিস থেকে দুজন প্রতিনিধি পাঠিয়ে মনিরের বাড়ি থেকে পিইসির সনদসহ কিছু কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই কর্মচারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন এ কর্মকর্তা।

সায়ীদ আলমগীর/এফএ/জিকেএস