দেশজুড়ে

ভাসানচরে যাচ্ছেন আরও ১৬৫৪ রোহিঙ্গা

রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ৩৮ বাসে করে আরও এক হাজার ৬৫৪ রোহিঙ্গা নোয়াখালীর ভাসানচরের উদ্দেশে যাত্রা করেছেন।

বুধবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপরে পুলিশি পাহারায় প্রথম পর্বে ১৯ বাসে উখিয়া কলেজের মাঠ থেকে ভাসানচরের জন্য রওনা হন এক হাজার ৬ রোহিঙ্গা। বিকাল ৫টার দিকে আরও ১৯ বাসে ৬৪৮ জন চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হন।

এর আগে বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপত্তার মাধ্যমে উখিয়া কলেজ মাঠে আসেন তারা। অনেকে সোমবার সন্ধ্যায়ও আসেন ট্রানজিট পয়েন্টে। এগারো দফায় দুপুর ও বিকেলে এক হাজার ৬৫৪ রোহিঙ্গা কক্সবাজার ত্যাগ করেন।

এর আগে ৩০ জানুয়ারি দশম দফায় এক হাজার ২৮৮ রোহিঙ্গা ভাসানচরে যান বলে জানান ১৪- এপিবিএন কমান্ডার (এসপি) নাইমুল হক নাইম।

অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মো. সামছুদ্দৌজা নয়ন জানান, পূর্বের নিয়মে তারা বুধবার রাতে চট্টগ্রাম নৌবাহিনীর জেটিঘাট এলাকায় অবস্থান করবেন। বৃহস্পতিবার দুপুরের তাদের ভাসানচর পৌঁছার কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৯ দফায় ২০ হাজার রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে পাঠায় সরকার। এছাড়া ২০২০ সালের মে মাসে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাবার চেষ্টা করা ৩০৬ রোহিঙ্গাকে সমুদ্র থেকে উদ্ধার করে সেখানে নিয়ে রাখা হয়।

এর আগে ২০১৭ সালের শেষের দিকে মিয়ানমার সেনাদের অভিযান থেকে প্রাণে বাঁচতে দেশটির রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। তারা কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে অবস্থান করছেন। রোহিঙ্গাদের চাপ কমাতে দুই বছর আগে অন্তত এক লাখ রোহিঙ্গাকে নোয়াখালীর হাতিয়ার কাছে মেঘনা মোহনার দ্বীপ ভাসানচরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেয় সরকার। ইতোমধ্যে ২২ হাজার রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

সায়ীদ আলমগীর/আরএইচ/এএসএম