দেশজুড়ে

খানজাহান আলীর বসতভিটা খুঁড়ে পাওয়া নিদর্শন দেখলেন দর্শনার্থীরা

বাগেরহাটে ইউনেসকো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত বিখ্যাত মুসলিম শাসক হযরত খানজাহান আলীর (রহ.) বসতভিটা খননে পাওয়া প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী প্রদর্শনী শেষ হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় এ প্রদর্শনী শেষ হয়। বাগেরহাট সদর উপজেলার সুন্দরঘোনা গ্রামে হযরত খানজাহানের (রহ.) বসতভিটা চত্বরে শুক্রবার থেকে এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের প্রদর্শনী শুরু হয়।

প্রত্মতত্ত্ব অধিদপ্তর খুলনার আঞ্চলিক পরিচালক আফরোজা খান মিতা জানান, প্রায় সাড়ে ৬০০ বছর আগে হযরত খানজাহান আলী (রহ.) খলিফাতাবাদ নামের বর্তমান বাগেরহাট শহরতলীতে একটি শহর প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। ষাটগম্বুুজ মসজিদসহ বাগেরহাটের অনেক বিখ্যাত স্থাপনা তার হাতেই তৈরি। এখানে তার বসভিটাও ছিল। এগুলো বিশ্ব ঐতিহ্য বা ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজের অংশ।

তিনি বলেন, বিশ্ব ঐতিহ্যের মসজিদের শহর বাগেরহাটে হযরত খানজাহানের (রহ.) বসতভিটায় ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর মাসে খননকাজ শুরু করে প্রত্মতত্ত্ব অধিদপ্তর। খননকালে ইটের দেওয়াল, চুন-সুরকির মেঝে, পানি নির্গমন নালা, সলিং, পাথওয়ে, পোড়ামাটির তৈজসপত্র, হাঁড়ি, ঘট, থালা, বাটি, পিরিচ, কলমের ভগ্নাংশ, তৈল প্রদীপ, অলংকৃত ইট, পোড়ামাটির গুটিকা, পোড়ামাটির বল, কাচের চুড়ি, গ্লেইজডওয়্যার, টালি, প্রদীপদানি, নল, সিঁড়ি, পায়ে চলার পথ, জালের গুটি, পোড়ামাটির পুতি, লাল, কালো ও ধূসর বর্ণের মৃৎপাত্র পাওয়া যায়।

বসতভিটা খননে পাওয়া এসব প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন মানুষকে দেখার সুযোগ করে দিতে শুক্রবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে পাঁচ দিনব্যাপী প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকে এই প্রদর্শনী।

হযরত খানজাহান আলীর (রহ.) বসতভিটা খননে পাওয়া প্রত্নতাত্তিক নিদর্শনগুলো নথিভুক্ত শেষে জাদুঘরে প্রদর্শন ও গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।

প্রত্মতত্ত্ব অধিদপ্তর বাগেরহাটের কাস্টডিয়ান মো. যায়েদ বলেন, ‘হযরত খানজাহান আলীর (রহ.) বসতভিটা খননে পাওয়া প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন আমাদের অনেকের অজানা ছিল। এই খননের মাধ্যমে আমরা অনেক নতুন কিছু জানতে পেরেছি। প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী প্রদর্শনীর মাধ্যমে অনেকে নতুন ঐতিহাসিক কিছু জানার ও দেখার সুযোগ পেয়েছেন।’

এসআর/এএসএম