দেশজুড়ে

বাড়তি পরিচর্যায় ডুলাহাজারার প্রাণীরা

গাজীপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে জেব্রা, বাঘ ও সিংহের মৃত্যুর পর কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে বাড়তি তদারকি-পরিচর্যায় রয়েছে উন্মুক্ত-আবদ্ধ প্রাণিরা। করোনা কাল ও অন্য যেকোনো জীবাণুর কথা চিন্তা করে প্রতিটি বেষ্টনীকে জীবাণুমুক্ত রাখতে জায়গায় জায়গায় ছিটানো হচ্ছে ব্যাকটেরিয়ানাশক স্প্রে। পরিচর্যা ও নিরাপত্তাকর্মীকে সকল প্রাণীর প্রতি বাড়তি তদারকির নির্দেশনা দিয়ে রেখেছেন পার্ক কর্তৃপক্ষ। এমনটিই জানিয়েছেন পার্কের তত্ত্বাবধায়ক (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) মো. মাজহারুল ইসলাম।

তিনি জানান, চাকরি জীবনে বন্যপ্রাণির জীবনাচরণের উপর দীর্ঘ প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ হয়েছে। আবদ্ধ প্রাণীগুলোর একটু বাড়তি যত্ন নেওয়া দরকার পড়ে। তাই শুধু গাজীপুরের ঘটনার পর নয়, আমি গত বছরের শেষ সময়ে দায়িত্বে আসার পর থেকে অভিজ্ঞতার আলোকে জলহস্তী, বাঘ-সিংহ, জেব্রা, ওয়াইল্ডবিস্ট, হরিণসহ বিভিন্ন প্রাণীর খাবারস্থল ও বিচরণ স্থানে ব্যাকটেরিয়ানাশক ওষুধ ছিটাচ্ছি।

তিনি বলেন, শুরু থেকে একটি মাত্র স্থানে খাবার দেওয়া হতো। অনেক প্রাণির খাবার মাটিতেই দেওয়া হতো। কিন্তু আবদ্ধ ও উন্মুক্ত প্রাণির জন্য খাবারস্থল দুটি পৃথকভাবে তৈরি করা হয়েছে। প্রায় প্রতিটি স্থানই এখন পাকা। আজ এখানে, কাল ওখানে খাবার দেওয়া হচ্ছে। কোনো ক্রমেই যেন খাবার দেওয়ার স্থান স্যাঁত স্যাঁতে না হয়, সেদিকে বাড়তি নজর রাখতে সকল পরিচর্যাকারীকে নির্দেশনা দেওয়া আছে। অকস্মাৎ খাবারস্থল আমি নিজেই পরিদর্শন করি।

তত্ত্বাবধায়ক মাজহারের মতে, সম্প্রতি গাজীপুর সাফারি পার্কে ১৩টি পশু মারা যাওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও পার্কের প্রাণি ও প্রাণির আবাস্থল জীবাণুমুক্ত রাখতে বাড়তি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেয়। ডুলাহাজারা পার্কে পাঁচটি জেব্রা, পাঁচটি ওয়াইল্ডবিস্ট, চারটি বাঘ, চারটি সিংহ, দশটি জলহস্তী ও উন্মুক্ত অসংখ্য হরিণকে রোগমুক্ত রাখতে বাড়তি তদারকি করা হচ্ছে নিয়মিত।

পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, ৯০০ হেক্টর জমিতে গড়ে তোলা দেশের প্রথম এই সাফারি পার্ক প্রাকৃতিক গাছ-গাছালিতে ভরপুর। এখানে দেশি-বিদেশি ও দুষ্প্রাপ্য প্রাণী রয়েছে। বিচরণের জন্য স্ব-স্ব প্রাণীর পছন্দনীয় পরিবেশ থাকায় প্রায় অর্ধশতাধিক প্রজাতির দুই হাজারের বেশি পশু-পাখি আপন মহিমায় নির্ভয়ে ঘুরে বেড়ায় এখানে। ফলে পরিবেশই তাদের রোগমুক্ত থাকতে সহায়ক হচ্ছে।

মাজহারুল ইসলাম বলেন, আমরা বেষ্টনীভুক্ত ও উন্মুক্ত প্রাণীর খাবার স্থানসহ বিচরণ এলাকাকে জীবাণুমুক্ত রাখতে চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যাকটেরিয়ানাশক স্প্রে ছিটাচ্ছি। প্রাণীদের খাবারস্থান পরিবর্তন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। বিধায় পার্কের কোনো প্রাণীই ঝুঁকিতে নেই বলে মনে করছি আমরা। বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ায় পশু-পাখিগুলো রোগমুক্ত থাকার পাশাপাশি আরও সতেজ হয়ে উঠছে।

এফএ/জিকেএস