যুদ্ধের কারণে ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে আটকা পড়ে বাংলাদেশি জাহাজ ‘বাংলার সমৃদ্ধি’। ২ মার্চ রকেট হামলার কবলে পড়ে জাহাজটির থার্ড ইঞ্জিনিয়ার নিহত হন। জীবিত ২৮ জনকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ইউক্রেনের একটি বাংকারে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশি ওই জাহাজে ক্যাপ্টেন হিসেবে কর্মরত মনসুরুল আলম খান (৩৬)। তিনি সাতক্ষীরার নারকেলতলা এলাকার সন্তান। এলাকায় গিনি নামেই পরিচিত তিনি। তার বাবা সেলিম খান অবসরপ্রাপ্ত বিএডিসি কর্মকর্তা।
ক্যাপ্টেন মনসুরুল আলম খানের বাবা বলেন, বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) সন্ধ্যায় বাড়িতে কথা বলেছে গিনি। জানিয়েছেন, ভালো আছে। সন্ধ্যার দিকে ইউক্রেনের ওয়ালভিয়া বন্দরে তাদের নামানো হয়েছে। বর্তমানে সেখানেই আছে।
তিনি আরও বলেন, ছেলের জন্য বাড়ির সবাই খুব চিন্তিত। ওর মা-স্ত্রী সারাদিন কান্নাকাটি করছে।
তিন ছেলের জনক ক্যাপ্টেন মনসুরুল আলম খান। ফাহিমি ও ফারহান (১০) যমজ, তারা ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। আর ছোট ছেলে ফারদিনের বয়স তিন বছর।
কাঁদতে কাঁদতে ক্যাপ্টেনের বড় ছেলে ফারহান বলেন, জাহাজে ২৯ জন ছিলেন। তাদের মধ্যে একজন মারা গেছেন। আমার আব্বু বেঁচে আছেন। আব্বু বলেছে সেখানে খাবারের খুব কষ্ট হচ্ছে, অল্প খাচ্ছেন। জাহাজে পানি ঢুকে গেছে। আমাদের বাড়ির সবার মন খারাপ। দয়া করে আমার আব্বুকে আপনারা ফিরিয়ে আনুন।
মনসুরুলের স্ত্রী আশকুরা সুলতানা বলেন, ‘২০০৬ সালে জাহাজের ক্যাপ্টেন পদে চাকরি জীবন শুরু করেন আমার স্বামী। সবশেষ তিন মাস আগে বাড়িতে এসেছিলেন। ছয়-সাত মাস পর পর বাড়িতে আসেন। ইউক্রেনে গিয়ে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে আটকা পড়বে, এটি কেউ ধারণা করেনি। জাহাজে রকেট হামলার পর তার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন সেখানে খাবারের সমস্যা হচ্ছে। প্রয়োজনের তুলনায় কম খাবার খাচ্ছে জাহাজে আটকা পড়া বাংলাদেশীরা। নেটওয়ার্ক ও ফোনে চার্জ না থাকায় খুব বেশি যোগাযোগ করাও সম্ভব হচ্ছে না।’
স্বামীর বরাত দিয়ে তিনি জানান, সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। শিপিং অফিস থেকে তাদের জানানো হয়েছে উদ্ধার কার্যক্রম চলছে, দুশ্চিন্তা করবেন না। সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে। ইউক্রেনীয়রা মাইন বসিয়ে রাখায় জাহাজটি বের হতে পারেনি।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কবির বলেন, জাহাজের ক্যাপ্টেন একজনের বাড়ি সাতক্ষীরায় বলে শুনেছি। তার পরিবারের খবর নেওয়া হবে।
আহসান রাজীব/এসজে/এএসএম