দেশে প্রথমবারের মতো মহিষ প্রদর্শনী হলো পাবনার ঈশ্বরদীতে। রোববার (৬ মার্চ) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহিষ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্যোগে ঈশ্বরদীর আলহাজ স্কুল মাঠে দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী হয়। এতে পাবনা ও নাটোর জেলার খামারিরা তাদের মহিষ প্রদর্শনে আনেন।
এছাড়া প্রদর্শনীতে গবাদি পশুর খাদ্য ও ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো স্টল বরাদ্দ নিয়ে তাদের উৎপাদিত পশু খাদ্য ও ওষুধ প্রদর্শন করেন। পরে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ছয় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কৃত্রিম প্রজননের পরিচালক ডা. ভবতোষ কান্তি সরকার প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিএম ইমরুল কায়েসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক ছিলেন মহিষ উন্নয়ন প্রকল্পের পরামর্শক প্রফেসর ড. ওমর ফারুক।
বিশেষ অতিথি ছিলেন- বিভাগীয় প্রাণী সম্পদ পরিচালক ডা. আব্দুল মজিদ, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নায়েব আলী বিশ্বাস, পৌরসভার মেয়র ইছাহক আলী মালিথা, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আল মামুন হোসেন মন্ডল।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশে এ প্রথম মহিষ প্রদর্শনীর মতো ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হয়েছে। পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে মহিষের বড় বড় খামার রয়েছে। এখানকার মহিষের দুধ দেশের অন্যান্য এলাকার চেয়ে সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। তাই ঈশ্বরদীকে মহিষ প্রদর্শনীর জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। দুধ উৎপাদন এবং দুধের গুণগতমানের কারণে মহিষকে ‘কালো সোনা’ নামে অভিহিত করা হয়।
গবেষকদের বরাত দিয়ে তারা জানান, গুণগতমানের দিক দিয়ে গরুর দুধ ও মাংসের তুলনায় মহিষের দুধ ও মাংস বেশি স্বাস্থ্যসম্মত। মহিষের দুধে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা মানুষের শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। মহিষের দুধ ঘন ও ননিযুক্ত হওয়ায় দই, পনির, ননিযুক্ত মিষ্টি উৎপাদনের জন্য উপযোগী। এছাড়া ঘি, মাখনসহ বিভিন্ন দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনেও এর জুড়ি নেই। গরুর দুধের তুলনায় মহিষের দুধ অনেক বেশি সময় ধরে সংরক্ষণ করা যায়। মহিষের মাংসে কোলেস্টেরলের পরিমাণ মুরগির চেয়েও কম। এতে ক্যালরি ও প্রয়োজনীয় চর্বিজাতীয় উপাদান গরুর দুধের তুলনায় অনেক বেশি। গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং ভিটামিনের উপস্থিতির কারণে মহিষের দুধ গরুর তুলনায় বেশি স্বাস্থ্যসম্মত ও বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক।
বক্তারা আরও বলেন, দেশকে মাংস ও দুধে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে মহিষের উন্নত জাত ও মহিষ পালন সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী বছর নাগাদ খামারি পর্যায়ে কৃত্রিম প্রজনন প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট সংকর জাতের উন্নত মহিষ পাওয়া যাবে। এতে দেশীয় বাজারে ভোক্তাদের মধ্যে হৃষ্টপুষ্টকরণ মহিষ, মহিষের দুধ এবং দুগ্ধজাত খাদ্যপণ্যের চাহিদা পূরণ হবে। এতে একদিকে যেমন দেশে ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর প্রাণীজ আমিষের চাহিদা পূরণ হবে অন্যদিকে মহিষ উৎপাদনে আধুনিক প্রযুক্তির সম্প্রসারণ ঘটবে এবং মহিষ খামারিদের আর্থসামাজিক অবস্থারও উন্নয়ন হবে।
আমিন ইসলাম জুয়েল/এসজে/জিকেএস