বাংলাদেশ পুলিশে উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) পদমর্যাদার নারী কর্মকর্তা মাত্র দুজন। এদের একজন অকুতোভয় নারী পুলিশ কর্মকর্তা আমেনা বেগম। তিনি বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) ডিআইজি এবং পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্কের সভাপতি। চট্টগ্রামের মেয়ে আমেনা পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে চতুর্থ।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন শেষে ১৯৯৯ সালে ১৮তম বিসিএসের মাধ্যমে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদে যোগদান করেন আমেনা বেগম। দীর্ঘ ২৩ বছর চাকরি জীবনে কাজ করেছেন দেশের বিভিন্ন জায়গায়। পুলিশ সুপার পদে দায়িত্ব পালন করেছেন রাঙ্গামাটি ও নরসিংদী জেলায়। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সিএমপির উপ-কমিশনার (উত্তর) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। কর্মজীবনে দক্ষতার পরিচয় দিয়ে ২০১৫ সালে পেয়েছেন পুলিশের সর্বোচ্চ পদক ‘বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল (বিপিএম)- সেবা’। ২০১৯ সালে কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন ‘আইজি গুড সার্ভিস মেডেল’।
দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতেও বাংলাদেশকে তুলে ধরেছেন আমেনা বেগম। ২০০৫ সালে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও পরে র্যাব সদর দপ্তরে যোগ দেন আমেনা। ২০০৬ সালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে পূর্ব তিমুরে বাংলাদেশ আর্মড পুলিশ ইউনিটের ডেপুটি কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব ওমেন পুলিশের এশিয়া রিজিয়ন কো-অর্ডিনেটর নির্বাচিত হন আমেনা বেগম। দুই মেয়াদে ২০১৫ সাল পর্যন্ত পালন করেন ওই দায়িত্ব। আন্তর্জাতিক নারী পুলিশের বার্ষিক সম্মেলন এশিয়ান ওমেন পুলিশ কনফারেন্সে কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া অঙ্গরাজ্যসহ ১৬টি অঙ্গরাজ্যে দেশটির পুলিশ বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পুলিশিংয়ের ওপর অভিজ্ঞতা অর্জন করেন আমেনা বেগম। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, জার্মানি, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পুলিশের সেমিনারে অংশ নিয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
এতকিছুর পরও পরিবারের দায়িত্ব থেকে দূরে সরে যাননি। পুলিশ বিভাগে এত বড় দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সঙ্গে সংসারও সামলাচ্ছেন সমানতালে। ব্যবসায়ী স্বামী ও এক কন্যাসন্তান নিয়ে তার পরিবার। ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে জাগো নিউজের সঙ্গে কথা বলেছেন আমেনা বেগম। এসবি কার্যালয়ে তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তৌহিদুজ্জামান তন্ময়।
জাগো নিউজ: ২০০২ সালে গভীর রাতে ভয়ংকর দুর্ঘটনার পর একটি পা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে হাঁটা ভুলে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে কীভাবে ডিআইজি হলেন?
আমেনা বেগম: আমার মা অসুস্থ থাকায় ২০০২ সালে ঢাকা থেকে স্বামীসহ রাতের বাসে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হই। কুমিল্লার মায়ামী হোটেলের পাশে বাস-ট্রাক সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার পর দেখতে পেলাম আমার পায়ে গর্তের সৃষ্টি হয়ে বাঁকা হয়ে গেছে। তখন আমার পা শরীর থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন। এ সময় একজন আমাকে একটি তোয়ালে দিলেন। সেটি দিয়ে পা ঢাকলেও দেখতে পাচ্ছিলাম সেখান থেকে প্রচুর রক্ত ঝরছে। এমন সময় আমি প্রায় দেড় লিটার পানি পান করি। যার কারণে আমি অনেক্ষণ জ্ঞান হারাইনি। এরপর হাসপাতালে যাওয়ার পর চিকিৎসককে বলেছিলাম, আর ব্যথা সহ্য করতে পারছি না, আমাকে প্যাথেডিন (ব্যথানাশক ওষুধ) দিন।
যে কোনো দুর্ঘটনা এবং সংকটময় মুহূর্তে মাথা ঠান্ডা রাখা সবচেয়ে বড় বিষয়। ৩৯ দিন টানা বিছানায় থাকার পর চিকিৎসক আমার কোমর পর্যন্ত প্লাস্টার করে দেন। প্লাস্টার নিয়ে চার মাস একটানা বিছানায় ছিলাম। এরপর ‘নি লেগ প্লাস্টার’ করা হয়, সেটাও ছিল পাঁচ মাস। এই সময়টা আমার পরিবার বিশেষ করে আমার স্বামীর সহায়তা এবং সমর্থন না পেলে এতদূর আসা সম্ভব ছিল না। দুর্ঘটনার চার মাস পরে (সময় কম বেশি হতে পারে) ‘নি লেগ প্লাস্টার’ নিয়ে স্ক্র্যাচে ভর দিয়ে আবারও কর্মস্থলে যোগদান করি।
সেই জায়গা থেকে ব্যাচমেটদের সঙ্গে একই দৌড়ে আসা আমার জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। যারা হেরে যান কিংবা ভেঙে পড়েন তাদের জন্য আমার এই সংগ্রাম শিক্ষণীয় হতে পারে। এখন আমার হাঁটা দেখলে কেউ বুঝতে পারবে না পায়ে কোনো সমস্যা ছিল।
জাগো নিউজ: বাংলাদেশ পুলিশে ডিআইজি পদমর্যাদার নারী কর্মকর্তা মাত্র দুজন। এর মধ্যে আপনি একজন। এতদূর আসার পেছনে অনুপ্রেরণার গল্প শুনতে চাই।
আমেনা বেগম: প্রথমেই আন্তর্জাতিক নারী দিবসে সবাইকে শুভেচ্ছা। ১৯৯৯ সালে যখন পুলিশে যোগদান করি তখন মাত্র পাঁচজন নারী পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন, যারা ছিলেন সুপারভাইজিং রোলে। ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশে নারীদের বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগ বন্ধ ছিল। ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার গঠন করে বিসিএস বিজ্ঞপ্তিতে নারীদের আবেদনের সুযোগ করে দেন। বিসিএসে আবেদনের ক্ষেত্রে আমার বাবা ও ভাইরা উৎসাহ দিতেন। তাদের অনুপ্রেরণায় আমার বিসিএস দেওয়া। বিসিএসে আমার প্রথম অপশন দেওয়া ছিল পুলিশ। এরপর আমি ও আরেকজন (মোট দুজন নারী) মেধাতালিকায় এসেছিলাম। পুলিশে আসতে পেরে প্রথমে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিতে চাই, এরপর আমার পরিবারের অনুপ্রেরণা ছিল।
জাগো নিউজ: পুলিশে পুরুষ সদস্যের তুলনায় নারী সদস্য অনেক কম। বিষয়টি কীভাবে দেখেন?
আমেনা বেগম: বিসিএস দিয়ে পুলিশে নারীদের প্রবেশে সুযোগ না থাকার কারণে আমরা ১০ বছর পিছিয়ে যাই। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ১৯৯৯ সালের পর থেকে থেমে নেই। তবে রাতারাতি ৫০০ কিংবা হাজার নারীকে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব নয়। প্রতি বছর ১০ শতাংশ হারে নারীরা পুলিশে আসার সুযোগ পাচ্ছেন এবং মেধা তালিকায়ও এসেছেন। সেই অনুপাতে এখন ৩৫০ জন নারী সুপারভাইজারিং মর্যাদায় আছেন। ইন্সপেক্টর, সাব-ইন্সপেক্টর, নায়েক ও কনস্টেবল পদমর্যাদার রয়েছেন ১৫ হাজারের মতো। এ সংখ্যাটা এখন ৮ শতাংশের বেশি। সরকারের লক্ষ্য পুলিশে নারীদের অংশগ্রহণ ১০ শতাংশে পৌঁছানো। ভবিষ্যতে তা বৃদ্ধি পেয়ে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। তবে আমার মনে হয় পুলিশে নারীদের অংশগ্রহণ ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ করা প্রয়োজন। সম্প্রতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আমরা সারাদেশের প্রতিটি থানায় নারী ও শিশু ডেস্ক করেছি। ৬৫০টি থানায় যদি নারী পুলিশ কর্মকর্তাকে পদায়ন করা হয়, সেখানে চার থেকে সাড়ে চার হাজার নারী প্রয়োজন হবে।
‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম- সেবা)’ ব্যাজ পরিয়ে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
বর্তমানে বান্দরবান, ঝালকাঠি, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলায় নারী পুলিশ সুপার (এসপি) রয়েছেন।
জাগো নিউজ: নরসিংদী ও রাঙ্গামাটি জেলায় পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। একজন নারী এসপি হিসেবে পুরো একটি জেলা সামলাতে বিশেষ কোনো প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েছেন কি না?
আমেনা বেগম: বিশেষ কোনো প্রতিবন্ধকতা নয়, তবে টিপিক্যাল সাইকোলজিক্যাল লিমিটেশন বলবো আমি। আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের মনে একটি সংশয় থাকে যে, নারী হয়ে একটি জেলার পুলিশ সুপারের দায়িত্ব পালন করতে পারবে কি না। আমি এসপি হয়ে যে জেলায় প্রথম গিয়েছি সেই জেলার রাজনৈতিক নেতা ও সামাজিক নেতারা পরে আমাকে বলেছিলেন, আমার যখন পোস্টিং হয় তখন তারা ভেবেছিলেন আমি নারী হয়ে একটি জেলার দায়িত্ব নিতে পারবো কি না। এমন একটা অনিশ্চয়তা তাদের মধ্যে ছিল। রাঙ্গামাটিতে প্রায় দুই বছর ও নরসিংদী জেলায় প্রায় সাড়ে তিন বছর পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। এর মধ্যে নরসিংদী জেলার আয়তন ও অপরাধের প্রবণতা অনেক বেশি ছিল। সেখানে আমি সফলভাবে দুই জেলায় প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করি। কাজ করতে গেলে প্রতিবন্ধকতা নারী এসপি হিসেবে নয় একজন এসপির থাকে। একজন পুলিশ সুপার হিসেবে যে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয় সেসব প্রশিক্ষণ আমাদের দেওয়া থাকে। সেই বিষয়গুলো বাস্তবক্ষেত্রে আমরা প্রয়োগ করি। নারী হিসেবে আমি কোনো প্রতিবন্ধকতা পাইনি।
জাগো নিউজ: জাতিসংঘে বাংলাদেশি নারী পুলিশ সদস্যদের চ্যালেঞ্জ কী কী?
আমেনা বেগম: ২০০৬ সালে আমি যখন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে যাই তখন ১৪০ জনের টিমে আমিই একমাত্র নারী কর্মকর্তা (সেকেন্ড ইন কমান্ড) ছিলাম। মিশনে যাওয়ার পর আমার কমান্ডো অফিসারসহ অন্য পুরুষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি রুমে থাকতাম। তবে আমার বেডটি কার্টন দিয়ে একটি পার্টিশন করে দেওয়া হয়েছিল। সেখানে একই বাথরুম আমরা শেয়ার করেছি। মিশনে যারা ছিলেন সবাই আমার ভাইয়ের মতো। প্রথমত আমি যখন দায়িত্ব পালন করতে যাই তখন আমি মনে করি না নারী কিংবা পুরুষ। দ্বিতীয়ত আমি দায়িত্ব পালন করি ‘বাই রুলস অ্যান্ড রেগুলেশন’।
জাগো নিউজ: জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে যেতে ইচ্ছুক নারী পুলিশ সদস্যদের কী কী অভিজ্ঞতা থাকা দরকার।
আমেনা বেগম: মিশনে গিয়ে অনেক সময় হোটেল কিংবা অর্ডার দিয়ে খাবার পাওয়া যাবে না। অথবা যখন আগুন, পানি ও গ্যাস পাওয়া যাবে না তখনো আপনাকে টিকে থাকতে হবে। জাতিসংঘ আমাদের জন্য একটি খাবার দেয়। সেটাকে বলা হয় মিল রেডি টু ইট (এমআরই)। এই খাবারটা খেয়েই হয়তো ৭-৮ দিন পর্যন্ত টিকে থাকতে হতে পারে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে যাওয়ার আগে টাঙ্গাইল পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে একটি ট্রেনিং কোর্স করানো হয়। সেখানে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। যারা যেতে ইচ্ছুক, বাছাই প্রক্রিয়ায় নাম আসে ও চূড়ান্ত মনোনীত হন তাদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পাঠানো হয় এবং প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
জাগো নিউজ: কর্মস্থলে নারীদের জন্য আপনার ব্যক্তিগত কোনো উদ্যোগ আছে?
আমেনা বেগম: ২০০৯ সালে আমরা ডিএমপির তেজগাঁওয়ে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার চালু করি। আরেকটি রয়েছে চট্টগ্রাম মহানগরে। জেলা পর্যায়ে চালু করি রাঙ্গামাটিতে। রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশ সুপারের দায়িত্ব পালনের সময় রাঙ্গামাটি ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার নিয়ে কাজ করি। তখন রাঙ্গামাটির দূর-দূরান্ত পর্যন্ত প্রতিটি থানায় ছোট আকারে একটি করে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার তৈরি করি। নরসিংদী জেলা পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালেও একই কাজ করি। এই কাজটি আমি দুটি উদ্দেশ্যে করি। একটি, কর্মস্থলে নারী পুলিশ সদস্যদের যে সমস্যা- টয়লেট সুবিধা, তাদের পোশাক পরিবর্তনের প্রাইভেসি ইত্যাদি সমাধানের জন্য। কারণ আমি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা (সিনিয়র অফিসার) হওয়ার আগে প্রায় ১৫ বছর এমন শেয়ারিং টয়লেট থেকে শুরু করে ট্রান্সপোর্ট সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি। এই সমস্যাগুলো সমাধানে নরসিংদীর ছয়টি থানা ভিজিট করে প্রতিটিতেই এমন একটি রুম তৈরি করি।
দ্বিতীয়ত, আমরা যারা পুলিশ কর্মকর্তা তাদের মধ্যে জেন্ডার সেন্সিবিলিটি ও জেন্ডার অ্যাওয়ারনেস তৈরি করাও উদ্দেশ্য ছিল। একজন নারীর প্রতি কীভাবে সম্মান প্রদর্শন করতে হয় এবং তার সমস্যা কীভাবে সমাধান করা যায়- এটাও জানতে হবে। এরপর ২০১৯ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আমরা একযোগে শুরু করি প্রতিটি থানায় নারী ও শিশু ডেস্ক। একজন নারী ভুক্তভোগী একজন পুরুষ কর্মকর্তার কাছে তার সমস্যার কথা অনেক সময় বলতে পারেন না। তবে একজন নারী কর্মকর্তার কাছে নির্দ্বিধায় তার সমস্যার কথা বলতে পারেন।
জাগো নিউজ: সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
আমেনা বেগম: আপনাকে এবং জাগো নিউজ পরিবারকেও ধন্যবাদ।
টিটি/কেএসআর/এইচএ/জিকেএস