ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কাউলিবেড়া ইউনিয়নের পল্লীবাড়া গ্রামের বাসিন্দা শেখ ইমাম উদ্দিন। বয়স ৯৫ বছর। তবে এ বয়সেও জোটেনি বয়স্কভাতা। ইউনিয়ন ও উপজেলা পরিষদের বারান্দায় ঘুরেও কোনো কাজ হয়নি।
ইমাম উদ্দিনের স্ত্রী, চার ছেলে ও চার মেয়ে রয়েছে। তিন ছেলে ও চার মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। ছোট ছেলে আমিনুল অবিবাহিত। মাদরাসায় পড়েন। স্ত্রী রেবা বেগম (৬৫) ও ছোট ছেলেকে নিয়েই ইমাম উদ্দিনের সংসার।
অন্য ছেলেরা বিয়ে করে বউ নিয়ে আলাদা সংসার করছেন। ইমাম উদ্দিনের নিজের সামান্য কিছু জমি আছে। কৃষক দিয়ে সেগুলো চাষাবাদ করে কোনোমতে চলে তাদের সংসার।
শেখ ইমাম উদ্দিন আক্ষেপ করে জাগো নিউজকে বলেন, ‘বাজান, কত বয়স হলে বয়স্কভাতা মেলে? আমার বয়স তো একশ’র কাছাকাছি। আমি গরিব মানুষ। একটি ভাতার জন্য বহুবার ঘুরছি কিন্তু কোনো ফল পাচ্ছি না। মরার আগে পাবো কি না জানি না। একটা ভাতা হলে খেয়েপড়ে কোনোমতে জীবনের বাকি দিনগুলো চলতে পারতাম।’
এ ব্যাপারে কাউলিবেড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) মেম্বার সুমন চোকদার বলেন, ‘তিনি বয়স্কভাতা পাওয়ার যোগ্য। আমি এ বছর নতুন ইউপি মেম্বার নির্বাচিত হয়েছি। শিগগির ইমাম উদ্দিনের বয়স্কভাতা কার্ড করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।’
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘বয়স্কভাতার তালিকা মূলত জনপ্রতিনিধিরা দেন। এখন পর্যন্ত কেন তিনি ভাতা পেলেন না তা জানা নেই। এটা খুবই দুঃখজনক।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আজিম উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘উনি যদি বয়স্কভাতার কার্ড পাওয়ার যোগ্য এবং অসহায় হন তাহলে তাকে বয়স্কভাতার কার্ড করে দেওয়া হবে।’
এন কে বি নয়ন/এসআর/এমএস