দেশজুড়ে

প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে পৌরসভার কর্মচারী খুন, যুবলীগ নেতাসহ আটক ৪

পাবনা আদালত থেকে বাড়ি ফেরার পথে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে আলামিন হোসেন (২৫) নামে পৌরসভার এক কর্মচারী খুন হয়েছেন। ছুরিকাঘাতে তার ভাই রজব আলীও (২২) জখম হন।

সোমবার (১৪ মার্চ) দুপুরে পাবনার সদর উপজেলার আতাইকুলা থানার সাদুল্লাপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আলামিন ও আহত রজব সুজানগর পৌরসভার রাধানগর মহল্লার মৃত আব্দুস সাত্তার প্রামানিকের ছেলে। আলামিন সুজানগর পৌরসভার টিকাদানকারী হিসেবে চাকরি করতেন।

এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযান চালিয়ে সুজানগর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন তোফা (৫০) এবং তার ভাই সুজানগর পৌর যুবলীগের সভাপতি জুয়েল রানা (৪৫), তাদের সহযোগী লিটন (২৫) এবং শ্রী গৌর কুমারকে (২৬) আটক করে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে তাদের কাছ থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্রও জব্দ করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, সুজানগর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন তোফা এবং তার ভাই উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জুয়েল রানার সঙ্গে আল আমিনদের জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ছিল। এরই জের ধরে রোববার রাতে দু’গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

সোমবার দুপুরে পাবনা আদালত থেকে বাড়ি ফিরছিলেন দুই ভাই আলামিন ও রজব। পথে প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত দুজনকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আলামিনকে মৃত ঘোষণা করেন। রজব আলীকে মুমূর্ষু অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

নিহত আল আমিনের স্ত্রী মুন্নী খাতুন অভিযোগ করে বলেন, ‘পূর্ব বিরোধ এবং রোববারের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার জের ধরেই তোফা এবং জুয়েল রানার নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

এদিকে এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী পাবনা-সুজানগর মহাসড়কে এবং সুজানগর পৌরসভায় কয়েক দফা বিক্ষোভ করেন। এছাড়া কর্মচারী হত্যার প্রতিবাদে সুজানগর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার কালোব্যাজ ধারণসহ বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তোফাজ্জল হোসেন তোফাসহ চারজনকে আটকের সত্যতা স্বীকার করেছেন আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন।

তিনি জাগো নিউজকে বলেন, আটকদের কাছ থেকে জব্দ করা অস্ত্র লাইসেন্স করা নাকি অবৈধ এবং এই অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা হচ্ছে।

ওসি আরও বলেন, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশ মাঠে কাজ করছে।

হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে পৌর মেয়র রেজাউর করিম রেজা জাগো নিউজকে বলেন, পৌরসভার কর্মচারী আল আমিন হত্যার প্রতিবাদে সুজানগর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার কালোব্যাজ ধারণসহ বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

আমিন ইসলাম জুয়েল/এসজে/এএসএম