চাঁদপুর লঞ্চঘাট থেকে ধারণক্ষমতার প্রায় ছয়গুণ অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে ‘এমভি ইমাম হাসান-৭’ নামে একটি লঞ্চ।
শনিবার (১৯ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টার দিকে চাঁদপুর ঘাট থেকে লঞ্চটি ছেড়ে আসে। মাত্র ৫০০ মিটার দূরে যেতেই লঞ্চটি তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। তাৎক্ষণিক লঞ্চটি পন্টুনে ফিরিয়ে আনায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায়।
এ ঘটনায় এমভি ইমাম হাসান লঞ্চের মাস্টার কবির হোসেন, সুকানি মো. পারভেজ ও করনিক মো. আল-আমিনকে আটক করেছে চাঁদপুর নৌ-থানা পুলিশ। একই সঙ্গে লঞ্চটি জব্দ করা হয়েছে।
জানা গেছে, রাত্রিকালীন যাত্রী নেওয়ার জন্য এই লঞ্চে ৩৪৫ জনের ধারণ ক্ষমতা থাকলেও প্রায় দুই হাজার যাত্রী নিয়ে লঞ্চটি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা করে। ঘাট থেকে ৫০০ মিটার দূরে গেলে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এসময় যাত্রীদের ছোটাছুটির কারণে লঞ্চটির পেছন দিয়ে ভেতরে পানি প্রবেশ করার উপক্রম হয়।
পরে তাৎক্ষণিক মাস্টার পুনরায় লঞ্চটি ঘাটে নিয়ে আসেন। এসময় দুর্ঘটনাকবলিত ওই লঞ্চের যাত্রীদেরকে সিডিউলে থাকা এমভি ঈগল ও মিতালী লঞ্চে ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করছেন প্রশাসনের সদস্যরা।
চাঁদপুর সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাসির উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়ার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ওই লঞ্চের যাত্রীদের ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
চাঁদপুর নদী বন্দর কর্মকর্তা মো. কাউছারুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টাফরা চা খাওয়ার জন্য পন্টুন থেকে একটু দূরে যাওয়ায় তারা তড়িঘড়ি করে লঞ্চটি ছেড়ে যেতে চেয়েছিল। আমরা সবসময় অতিরিক্ত যাত্রী যাতে লঞ্চে না ওঠানো, সেদিকে নজর রাখি। তবে মাঝে মাঝে যাত্রীর চাপ বেশি হলে কিছু যাত্রী অতিরিক্ত নেওয়া যায়।’
নজরুল ইসলাম আতিক/এএএইচ