দেশজুড়ে

দরপত্র ছাড়াই সরকারি হাসপাতালের কোয়ার্টার ভবন অপসারণ!

নোয়াখালীর ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়কের সরকারি কোয়ার্টার ভবন বিধিবহির্ভূতভাবে ভাঙার অভিযোগ উঠেছে। ভবন ভাঙার বিষয়ে সার্ভে রিপোর্ট হয়নি। আহ্বান করা হয়নি কোনো দরপত্র। অথচ পুরো ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। নোয়াখালী গণপূর্ত থেকে এ বিষয়ে লিখিতভাবে অবহিতকরণ চিঠিও ইস্যু করা হয়েছে। তাতেও মেলেনি কোনো সুরাহা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সেলিম ২০২১ সালের ২৫ মে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীকে চিঠির (স্মারক নম্বর-১৬২) মাধ্যমে জেনারেল হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়কের সরকারি কোয়ার্টার ভবন ভাঙার বিষয়টি অবগত করেন। একই তারিখে ১৩৪ নম্বর স্মারকের আরেক চিঠিতে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ খালিদ ছায়ফুল্যাহ অবহিত করেন নির্বাহী প্রকৌশলীকে। পরে একই বছরের ২৭ মে নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুল হাছান সার্ভে রিপোর্টহীন সরকারি ভবন অপসারণের বিষয়টি উল্লেখ করে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে লিখিতভাবে (স্মারক নম্বর-১৩০৩) অবগত করেন।

নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সেলিম জাগো নিউজকে বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রভাবে’ সার্ভে রিপোর্ট ছাড়া হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়কের সরকারি বাসভবন অপসারণ করে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি চিঠির মাধ্যমে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ভবনটি পুরোনো হলেও দরপত্রে ১৫ লাখ টাকার বেশি নির্ধারণ করা যেত। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।

গণপূর্ত বিভাগ নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুল হাছান জাগো নিউজকে বলেন, নিয়মবহির্ভূতভাবে সরকারি ভবন ভেঙে নেওয়ার বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে। পরবর্তীসময়ে এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না জানি না। তবে একটি সরকারি ভবন সার্ভে রিপোর্ট ছাড়া কেউ গায়েব করে ফেলবে, তা মেনে নেওয়া যায় না। তাই চিঠি দিয়ে অফিসিয়ালি তা হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ককে জানানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করলে সবই প্রকাশ পাবে।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক ডা. হেলাল উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, আমি ২০২১ সালের ৭ জুলাই এখানে যোগদান করেছি। আমি যোগদানের আগের এ বিষয়টি আমি মৌখিকভাবে শুনেছি। হাসপাতালের সরকারি ভবন সার্ভে রিপোর্ট বা দরপত্র ছাড়া উধাও হয়ে যাওয়া গুরুতর অন্যায়। ফাইল দেখে এ বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সূত্র জানায়, নতুন ভবন তৈরির প্রয়োজনীয়তায় সাধারণত পুরোনো ভবন ভাঙা হয়। তবে স্বাধীনতার আগে তৈরি ভবনটি ভাঙা হলেও কোনো সার্ভে হয়নি। ভবনটি সার্ভে কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক ভাঙা হলে এ ভবন বিক্রির টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হতো। কিন্তু সার্ভে রিপোর্ট ছাড়া দরপত্রহীন ভবনটি ভেঙে নিয়ে যাওয়ায় কতিপয় ব্যক্তি অসাধু উপায়ে আর্থিকভাবে লাভবান হলেও সরকার ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ভবন ভাঙা খরচ বাদে বাকি সরঞ্জাম বিক্রির টাকা গেছে যারা ভেঙেছে তাদের পকেটে।

নোয়াখালীর সাবেক জেলা প্রশাসক (বর্তমানে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে কর্মরত) মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান জাগো নিউজকে বলেন, আমি ২০২০ সালের ৭ জুলাই নোয়াখালীতে যোগদান করি। আমার দেড় বছর সময়ে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের কোনো ভবনের সার্ভে কমিটির সভা হয়েছে বলে আমার জানা নেই। যদি কেউ সার্ভে রিপোর্ট ছাড়া সরকারি ভবন ভেঙে নিয়ে যায় তা গুরুতর অন্যায় এবং দণ্ডনীয় অপরাধ।

নোয়াখালীর বর্তমান জেলা প্রশাসক (ডিসি) দেওয়ান মাহবুবুর রহমান জাগো নিউজে বলেন, এ ধরনের কোনো বিষয় আমার জানা নেই। সার্ভে রিপোর্ট ছাড়া সরকারি ভবন ভেঙে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি হাসপাতালের তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক কোনোভাবেই এড়িয়ে যেতে পারেন না। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগতভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইকবাল হোসেন মজনু/এএ/জিকেএস