কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন বঙ্গবন্ধু পরিষদের দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে শনিবার (২৬ মার্চ) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতিস্তম্ভে এ ঘটনা ঘটে। এসময় শ্রদ্ধাঞ্জলি ভাঙচুর করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বঙ্গবন্ধু পরিষদ (শিক্ষক ইউনিট) শ্রদ্ধাঞ্জলি দিতে চাইলে সহকারী প্রক্টর ড. শফিকুল ইসলাম তাদের কিছুক্ষণ পরে বেদিতে ওঠার জন্য বলেন। এনিয়ে কথা-কাটাকাটি শুরু হলে প্রতিপক্ষকে ‘অবাঞ্ছিত’ ও ‘বিভক্তি সৃষ্টিকারী’ বলে আখ্যায়িত করেন কেন্দ্রঘোষিত বঙ্গবন্ধু পরিষদের সদস্যরা। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়।
ঘটনার সময় বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আরফিন, শিক্ষক সংগঠন শাপলা ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মামুনুর রহমান, অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান, অধ্যাপক ড. বাকী বিল্লাহ বিকুলসহ পরিষদের প্রায় ৪০ জন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।
পরে ছাত্রলীগের একাংশ, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাসহ অনেকেই ধাক্কাধাক্কি শুরু করে। এসময় বিশ্বিবদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেনসহ প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঠেকানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।
কিছুক্ষণ পর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ হোসেন, উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক নাহিদ হাসান হাফিজুল ও শহীদুল ইসলামের সঙ্গে ফের হাতাহাতি শুরু হয়। পরে প্রক্টরিয়াল বডির হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন শিক্ষক ইউনিটের শিক্ষকরা। পরে ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে তারা মানববন্ধন করেন।
এ বিষয়ে কেন্দ্রঘোষিত বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আরফিন বলেন, ‘শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হচ্ছিল সিরিয়াল অনুসারে। কিন্তু তাদের নাম ঘোষণা করা না হলেও তারা জোর করে বেদিতে উঠে পড়েন। এসময় সহকারী প্রক্টর তাদের বাধা দিলে তারা হট্টগোল শুরু করেন।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমার কাছে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগ জানানো হয়েছে। আজকের অনুষ্ঠানগুলো শেষ করে তারা চাইলে তাদের সঙ্গে বসবো।’
এরআগে সকাল ৯টায় স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠান শুরু হয়। এসময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) আতাউর রহমান প্রমুখ।
পরে একে একে বিভিন্ন আবাসিক হল, অনুষদ, বিভাগসহ বিভিন্ন শিক্ষক, ছাত্র, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
রুমি নোমান/এসআর/এএসএম