নোয়াখালীর কবিরহাটের ধানসিঁড়ি ইউনিয়নে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার নামে নগ্ন নৃত্য ও মদ-জুয়ার আসর বসানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে।
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ২২ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে জগদানন্দ গ্রামে এ মেলা চলছে। মেলার সভাপতি ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান মুনাফ, সহ-সভাপতি পারভেজ ভূঞা ও সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন বাবুল। তারা সবাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা।
আবদুল মান্নান মুনাফ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, পারভেজ ভূঞা সহ-সভাপতি ও কামাল উদ্দিন বাবুল সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।
স্থানীয়রা জানান, গত সপ্তাহে ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান কামাল কোম্পানী মেলার উদ্বোধন করেন। এরপর থেকেই তার নাম ভাঙিয়ে এবং স্থানীয় প্রশাসনের যোগসাজশে মেলায় নগ্ন নৃত্য চলছে। বিভিন্ন মহলে অভিযোগ দিয়েও থামানো যায়নি এ অশ্লীল মেলা।
শুক্রবার (২৫ মার্চ) কালোরাত্রিতে সরেজমিন মুকবুল চৌধুরী হাট বিজয় মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, মেলায় রয়েছে ১৫ থেকে ২০টি দোকান। মেলার মূল আর্কষণ ‘নগ্ন নৃত্যের’ ভ্যারাইটি শো। রাত ১১টা থেকে উঠতি বয়সী স্কুল, কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী আর গ্রাম্য যুবকদের উপচেপড়া ভিড়। তবে নগ্ন নৃত্য মঞ্চে মোবাইলে ছবি ও ভিডিও চিত্র ধারণ কঠিনভাবে নিষিদ্ধ।
জানতে চাইলে ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও মেলা আয়োজন কমিটির সহ-সভাপতি পারভেজ ভূঞা জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রত্যেক বছর এখানে মেলা হয়। এবারও পাঁচদিনের জন্য মেলার অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। যেহেতু মেলা শেষ প্রান্তে তাই দ্রুত মেলা ক্লোজ করে দেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে ধানসিঁড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মেলার সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন বাবুলের ফোনে একাধিকবার কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও মেলা আয়োজন কমিটির সভাপতি আবদুল মান্নান মুনাফ বলেন, ‘খারাপ নাচ-গান হওয়ার সময় আমি ওখানে ছিলাম না। এমন হওয়ার কথা নয়। বিষয়টি জেনে পরে জানাবো।’
ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান কামাল কোম্পানী বলেন, ‘আমি মেলা পরিচালনার সঙ্গে জড়িত নই। আমি প্রথম থেকে মেলা আয়োজনের পক্ষে ছিলাম না। আজ (শনিবার) মেলার শেষদিন হলেও মনে হয় শেষ হবে না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কবিরহাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নাল আবেদীন জাগো নিউজকে বলেন, ‘এ বিষয় কোনো অভিযোগ পাইনি। খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কবিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আতিকুল মামুন জাগো নিউজকে বলেন, ‘মৌখিকভাবে অভিযোগের বিষয়টি শুনেছি। লিখিতভাবে জানালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ইকবাল হোসেন মজনু/এসআর/জেআইএম