অশালীন ও অসহনীয় আচরণের অভিযোগ এনে নেত্রকোনার বারহাট্টায় মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান নামের এক শিক্ষকের অপসারণ-বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বারহাট্টা উপজেলা সদরের সিকেপি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল বের করে। খেলার মাঠ থেকে মিছিলটি বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বিদ্যালয় মোড়ে জড়ো হয় তারা।
রাস্তায় বসে শিক্ষকের অপসারণ দাবিতে নানা স্লোগান দিতে থাকে শিক্ষার্থীরা। অভিযুক্ত মাহবুবুর রহমান ওই স্কুলের সহকারী শিক্ষক। খবর পেয়ে বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মাজহারুল ইসলাম ঘটনাস্থলে যান। তার আশ্বাসে দুপুর ১টার দিকে রাস্তা থেকে শিক্ষার্থীরা চলে যায়। পরে শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছেন ইউএনও।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সবসময়ই শিক্ষক মাহবুবুর রহমান তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। আর ছাত্রীদের নানাভাবে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন ও গায়ে হাত তোলেন। দীর্ঘদিন ধরে এমনটা চলে আসায় বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমেছে শিক্ষার্থীরা। ওই শিক্ষককে অপসারণ ও শাস্তির ব্যবস্থা না করলে কঠোর আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দেয় তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অভিভাবক বলেন, আমাদের মেয়েদের সঙ্গে শিক্ষক মাহবুবুর রহমানের অসহনীয় আচরণ ও শ্লীলতাহানির বিচার চাই। একজন শিক্ষক এতবড় নেক্কারজনক কাজ করতে পারেন এটা ভাবতেই অবাক হই। আমাদের মেয়েদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা শঙ্কিত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, মাহবুর রহমান সাত-আট মাস আগে সাবেক প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে খারাপ আচরণের কারণে বেশ কিছুদিন সাময়িক বরখাস্ত ছিলেন। তিনি শুধু শিক্ষার্থী নয় শিক্ষকদের সঙ্গেও জঘন্য আচরণ করেন। তার জন্য শিক্ষকদের ভাবমূর্তি খারাপ হচ্ছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, বিদ্যালয়ের সব ছাত্রছাত্রীরা আমার সন্তানের মতো। তাদের সঙ্গে অসহনীয় আচরণ আমি করি নাই। ছাত্রছাত্রীরা শুধু শুধু আমার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করছে। আমার কোনো খারাপ উদ্দেশ্য নেই। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে হেয় করতে একটি মহল ইন্ধন যোগাচ্ছে।
এ বিষয়ে বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মাজহারুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা চলে যায়। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের জন্য শিক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে আজই চিঠি লিখে সুপারিশ জানাবো। এছাড়া অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে।
জানতে চাইলে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল গফুর জাগো নিউজকে বলেন, বিষয়টি শুনেছি। তবে ইউএনও ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ভালো বলতে পারবেন।
এইচ এম কামাল/এসজে/এএসএম