দেশজুড়ে

তিন বছর পর ছেলেকে পেয়ে গলা জড়িয়ে কাঁদলেন দিনোবালা

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ সীমান্তে গঙ্গাপূজা উপলক্ষে দুই বাংলার মিলন মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মেলা উপলক্ষে আত্মীয়-স্বজনদের প্রায় তিন বছর পর দেখে অনেকে কান্না ধরে রাখতে পারেননি। এ যেন ছিল হাসি-কান্নার মেলা।

বুধবার (৩০ মার্চ) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার গোড়ল ইউনিয়নের ঘোঙ্গাগাছ সীমান্তের নো ম্যানস ল্যান্ডে মালদহ নদীর তীর এই মেলার আয়োজন করা হয়।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহার জেলার সিতাই থানায় কাঁটাতারের বেড়ার পাশে ভেড়ভেড়ি এলাকায় মালদহ নদীর তীরে গঙ্গাপূজা উপলক্ষে প্রতিবছর চৈত্র মাসে এ মেলার আয়োজন করা হয়।

উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বিএসএফের কঠোর নজরদারিতে সীমান্তের ৯১৫ নম্বর পিলারের কাছে এ মেলা বসে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার আগে থেকেই মেলাটি অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। তবে করোনা মহামারির কারণে প্রায় ৩ বছর এ মেলা বন্ধ ছিল।

দীর্ঘদিন পর মেলায় দুই বাংলার মানুষ একত্রিত হয়ে স্বজনদের দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তারা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

মেলায় আসা বাংলাদেশি নাগরিক শ্যামল চন্দ্র বলেন, পাসপোর্ট তৈরি করার সামর্থ্য নেই। তাই সীমান্তে গঙ্গাপূজা উপলক্ষে মেলায় এসে ভারতীয় আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি।

খগেন্দ্রনাথ (৩৫) থাকেন ভারতের কুচবিহারে। ২০ বছর আগে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাড়ি জমান তিনি। তবে তার মা দিনোবালা (৫০) থাকেন বাংলাদেশের কালীগঞ্জ উপজেলার গোড়ল ইউনিয়নে। খগেন্দ্রনাথ প্রায় তিন বছর পর মায়ের সঙ্গে দেখা করতে আসেন এই মেলায়। এ সময় মা দিনোবালা ছেলের গলা জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

গোড়ল ইউনিয়নের বাসিন্দা হরিচন্দ্র রায় (৪৫) বলেন, উভয় দেশের নাগরিক মালদহ নদীতে পূণ্যস্নান করেন। বিশেষ করে ভারতীয় নাগরিকরা কাঁটাতারের বেড়ার পাশে ভেড়ভেড়ি এলাকায় গঙ্গাপূজা করার পর মালদহ নদীতে পূণ্যস্নান করে থাকেন।

করোনা মহামারির কারণে তিন বছর সীমান্ত মেলাটি বন্ধ ছিল। তাই এ বছর দুই বাংলার মানুষের উপচে পড়া ভিড় ছিল মেলায়। এ বিষয়ে গোড়ল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন বলেন, লালমনিরহাটসহ বিভিন্ন স্থান থেকে কয়েক হাজার বাংলাদেশি এসেছিলেন এ মেলায়।

অধিকাংশ মানুষ এসেছিলেন ভারতে বসবাসরত আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে। উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কঠোর নজরদারিতে মেলাটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। সন্ধ্যা ৬টার দিকে মেলা শেষে দুইদেশের নাগরিকরা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যান বলেও জানান ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আমিন।

রবিউল হাসান/কেএসআর