দেশজুড়ে

বাগেরহাটে ধর্ষণ মামলায় কারাগারে আইনজীবী

বাগেরহাটে এক গৃহবধূর ধর্ষণ মামলায় সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) ফকির ইফতেখারুল ইসলাম রানাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শনিবার (২ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টার আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ইফতেখারুল ইসলাম রানা জেলা জজ আদালতের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) এবং জেলা তাঁতি লীগের সদস্য সচিব।

এর আগে বাগেরহাট শুক্রবার দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বাগেরহাট সদর মডেল থানায় ওই আইনজীবীর বিরুদ্ধে মামলা করেন গৃহবধূ।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে ওই গৃহবধূ পারিবারিক আদালতে একটি মামলা করেন। ওই মামলাটি পরিচালনা করতে ফকির ইফতেখারুল ইসলাম রানাকে আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেন তিনি। এরপর থেকে বিভিন্ন সময়ে মামলার কাজে গৃহবধূকে ওই আইনজীবীর চেম্বারে আসা যাওয়া করতে হতো। এক পর্যায়ে ইফতেখারুল গৃহবধূকে খারাপ প্রস্তাব দেন। এতে তিনি রাজি না হওয়ায় ইফতেখারুল মামলাটি চালাতে অনীহা প্রকাশ করেন এবং মামলায় তাকে হারিয়ে দেওয়ারও ভয় দেখান।

চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি বিকেলে ফোন করে ওই নারীকে ইফতেখারুল বাড়িতে ডেকে নেন এবং স্ত্রী না থাকার সুযোগে তাকে ধর্ষণ করেন। এ সময় ইফতেখারুল গোপন ক্যামেরায় ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করেন।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে ওই গৃহবধূ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বাগেরহাট সদর মডেল থানায় ইফতেখারুল ইসলাম রানার বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওইদিন সন্ধ্যায় শহরের খারদ্বার মল্লিকবাড়ির মোড়ে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার বিকেলে গৃহবধূর জবানবন্দি দেওয়ার পর জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত রানাকে কারাগারে পাঠানো নির্দেশ দেন।

বাগেরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ড. এ কে আজাদ ফিরোজ টিপু জাগো নিউজকে বলেন, ফকির ইফতেখারুল ইসলাম রানা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য ও রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি)। নারী নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। তবে তিনি কোনো ষড়যন্ত্রের শিকার কি না তা আমরা খতিয়ে দেখছি।

এসজে/জেআইএম