দেশজুড়ে

চাহিদা বেড়েছে গাভা গ্রামের হাতে ভাজা মুড়ির

ইফতারে যত রকমের খাবারই থাকুক না কেন ছোলা-মুড়ি বাধ্যতামূলক। তাই রমজান মাস এলেই চাহিদা বাড়ে হাতে ভাজা মুড়ির। বাড়তি সেই চাহিদা পূরণে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ি ইউনিয়নের গাভা গ্রামে এখন দিন-রাত চলছে মুড়ি ভাজার কাজ।

এ গ্রামের শতাধিক পরিবার মুড়ি ভাজা ও বিক্রির সঙ্গে যুক্ত। বংশ পরম্পরায় তারা ধরে রেখেছেন এ পেশা। সারা বছর এ কাজের আয়েই তাদের সংসার চলে। তবে রমজান মাস এলে মুড়ির চাহিদা কয়েকগুণ বাড়ায় বেড়েছে কাজের চাপও। একটু বাড়তি লাভের আশায় ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত চলছে মুড়ি ভাজার কাজ। পরিবারের সবাই এ কাজে সহায়তাও করছেন।

সরেজমিন গাভা গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিটি বাড়িতে ছোট ছোট মুড়ি তৈরির রান্নাঘর। পরিবারে সবাই মুড়ি ভাজায় ব্যস্ত। একেকটি পরিবার প্রতিদিন কমপক্ষে এক মণ চালের মুড়ি ভাজতে পারে।

গাভা গ্রামের মুড়ি কারিগর তরুণ কুমার জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাদের গ্রামে কয়েকশ’ পরিবার যুগ যুগ ধরে মুড়ি ভেজে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। সার ও রাসায়নিক মুক্ত হওয়ায় এখানকার মুড়ির চাহিদা প্রচুর। তবে রমজানে এ চাহিদা কয়েকগুণ বাড়ে। আমাদের এ মুড়ি যারা খান তারা মেশিনের মুড়ি খেতে চান না। এ মুড়ি দুই মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়।`

তিনি আরও বলেন, ‘কয়েকটি জাতের ধান থেকে মুড়ির চাল তৈরি করা হয়। সম্প্রতি ধান ও চালের দাম বাড়ায় লাভ কম হচ্ছে। বর্তমানে এখানে পাইকারি মুড়ি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ১১০ টাকায়।’

একই গ্রামের মুড়ি কারিগর কার্তিক দাস জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা আদি নিয়মে হাতে ভাজা মুড়ি তৈরি করি। চাল ও লবণ পানির বাইরে আমাদের মুড়িতে কোনো ধরনের ইউরিয়া সার বা রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় না। এজন্য আমাদের এ মুড়ি স্বাস্থ্যসম্মত ও খেতে সুস্বাদু। রোজার শুরু থেকেই আমাদের মুড়ি ভাজার ব্যস্ততা বেড়ে যায়। মেশিনে ভাজা মুড়ির চেয়ে আমাদের হাতে ভাজা মুড়ির চাহিদা বেশি। কিন্তু মেশিনের চেয়ে আমাদের খরচ বেশি হয়। এ জন্য কমদামে মুড়ি বিক্রি করতে পারি না।’

সাতক্ষীরা বড় বাজারে মুড়ি ব্যবসায়ী কবিরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘বেশিরভাগ মেশিনে ভাজা মুড়ি থেকে রাসায়নিকের গন্ধ আসে। হাতে ভাজা মুড়িতে খরচ একটু বেশি হয়। ফলে দামও একটু বেশি। তবে বাজারে এর চাহিদা প্রচুর। রমজানে চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘হাতে ভাজা মুড়ি আধুনিক পদ্ধতিতে প্যাকেজিং করে বাজারজাত করা গেলে কারিগররা ভালো দাম পাবে। তবে স্বল্প আয়ের কারিগরদের পক্ষে সেটি সম্ভব নয়। এজন্য সরকারিভাবে তাদের সহযোগিতা করা উচিত।’

এ বিষয়ে জেলা ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) উপ-ব্যবস্থাপক গোলাম সাকলাইন জাগো নিউজকে বলেন, ‘গাভা গ্রামের হাতে ভাজা মুড়ির সুনাম রয়েছে। এ মুড়ি বাণিজ্যিককরণে সরকারিভাবে তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। পাশাপাশি বে-সরকারি উদ্যোক্তারাও এগিয়ে আসবেন।’

আহসানুর রহমান রাজীব/এসজে/জেআইএম