দেশজুড়ে

হাসপাতালের মেঝে-বারান্দাও ভরে গেছে ডায়রিয়া রোগীতে

ফরিদপুরে হঠাৎ বেড়েছে ডায়রিয়া রোগীর প্রকোপ। হাসপাতালে যেন ঠাঁই নেই অবস্থা। বেডগুলো ভর্তি। মেঝে ও বারান্দাগুলোতেও ডায়রিয়া রোগী ভর্তি। এমন পরিস্থিতি পুরো জেলাজুড়েই। হাসপাতালগুলোর সিটের তুলনায় আক্রান্ত রোগীর হার কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

একই অবস্থা সকল সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে। ফলে এসব রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. ছিদ্দীকুর রহমান জাগো নিউজকে এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

রোববার (৩ এপ্রিল) ফরিদপুর শহর ও বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খোঁজ নিয়ে এ এসব তথ্য জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফরিদপুর সদর হাসপাতলে ডায়রিয়া রোগীর সিট সংখ্যা ১০টি। কিন্তু সেখানে কোনো সিট খালি নেই। প্রায় তিনগুণেরও বেশি ডায়রিয়া রোগী ভর্তি রয়েছে।

বৃহত্তর ফরিদপুরের অন্যতম শিশু চিকিৎসা কেন্দ্র ড. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতাল। হাসপাতালটিতে আন্তঃবিভাগ ও বহির্বিভাগ মিলে গড়ে প্রতিদিন সাড়ে তিন শতাধিক ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ অন্যান্য বেসরকারি হাসপাতালে আরও প্রায় দুই শতাধিক ডায়রিয়া রোগীকে প্রতিদিন চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এ ব্যাপারে সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুদের অভিভাবকরা জাগো নিউজকে বলেন, হঠাৎ করে বাচ্চাদের ঘন ঘন পাতলা পায়খানা ও বমি দেখা দিলে হাসপাতালে ভর্তি করি। হাসপাতালে সিট নেই। মেঝেতে ও বারান্দায় ঠাঁই হলেও চিকিৎসা সেবা পাচ্ছি।

ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স রিক্তা হ্যাপি ও সদর হাসপাতলের সিনিয়র নার্স ফরিদা ইয়াসমিন জাগো নিউজকে বলেন, হঠাৎ করে রোগীর চাপ ব্যাপক হারে বেড়েছে। আমরা সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। প্রতিদিনই নতুন নতুন শিশু রোগী আসছে। শিশুদের ঘন ঘন পাতলা পায়খানা ও বমি হচ্ছে।

ফরিদপুর ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. এমদাদুল হক সামীম বলেন, আবহাওয়া পরিবর্তন এর মূল কারণ। হঠাৎ এ রোগের সংক্রমণ বাড়লেও আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। সবকিছু আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শিশুদের সাবধানে রাখতে হবে। সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। কিছুক্ষণ পর পর হাত ধুয়ে দিতে হবে। এ প্রকোপ থেকে বাঁচতে পরিচ্ছন্নতার কোনো বিকল্প নেই।

বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. খালেদুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, হঠাৎ ডায়রিয়া রোগীর প্রকোপ বেড়েছে। তাদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. কবির হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, প্রতিদিনই ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আমরা চিকিৎসা সেবা প্রদান করছি। অনেকেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। উপজেলা ছাড়াও আশপাশের উপজেলা থেকে ডায়রিয়া রোগী বিশেষ করে শিশুরা ভর্তি হচ্ছে।

এ বিষয়ে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. সিদ্দিকুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, মূলত আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে ফরিদপুরে হঠাৎ ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফরিদপুরের বিভিন্ন হাসপাতালগুলোতে ভিড় বেড়েছে। আক্রান্তের অধিকাংশই শিশু। তবে আতংকের কিছুই নেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের সব ব্যাবস্থা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ডায়রিয়া রোগের প্রকোপ থেকে বাঁচতে শিশুদের বাসি-পচা খাবার থেকে দূরে রাখার পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি পান এবং সবসময় পরিষ্কার রাখা, খাবার ঢেকে রাখতে হবে।

এন কে বি নয়ন/এফএ/জেআইএম