ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অভিনব কায়দায় লুটে নেওয়া হচ্ছে টাকা। ব্যাংক থেকে বের হতেই পেছন থেকে ময়লা ছিটিয়ে দেওয়া হয় কাপড়ে। এ সুযোগে গ্রাহকের কাছ থেকে লুটে নিয়ে যাওয়া হয় টাকা। গত দুদিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দুই উপজেলায় দুজনের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা লুট করা হয়েছে।
জেলার নবীনগর উপজেলার নাটঘর ইউনিয়নের চরিলাম গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে আব্দুল আজিজ। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া পোস্ট অফিসে মেয়ের বিয়ের জন্য সাড়ে ৯ লাখ টাকা সঞ্চয় করেন। মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে পোস্ট অফিস থেকে ওই টাকা উত্তোলন করেন। তিনি টাকা তুলে জামে মসজিদ রোড দিয়ে পায়ে হেঁটে প্রিমিয়ার ব্যাংকে যাচ্ছিলেন। এসময় তার গায়ে ময়লা ছিটিয়ে টাকা লুটে নেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ জাগো নিউজকে বলেন, পোস্ট অফিস থেকে সাড়ে নয় লাখ টাকা তুলে হেঁটে প্রিমিয়ার ব্যাংকে যাচ্ছিলাম। পথে কেউ পেছন থেকে আমার শার্টে কিছু একটা ছুড়ে মারলে শাটর্টি ময়লা হয়ে যায়। বিষয়টি আমি আঁচ করতে না পারলেও পেছন থেকে একজন আমাকে ডেকে শার্টে ময়লা লাগার কথা বলেন। পরে আমি ময়লা ধোয়ার জন্য পাশের মসজিদে যাই। টাকার ব্যাগটি মসজিদের গেটের কাছে রেখে পাশের ওজুখানা থেকে শার্টের ময়লা ধুচ্ছিলাম। কয়েক মিনিট পর এসে দেখি ব্যাগটি নেই।’
এরআগে, সোমবার (৪ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে সরাইলে বকুল বেগম নামের এক নারী জনতা ব্যাংক সরাইল শাখা থেকে ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করেন। তিনি ব্যাংকের নিচে নামার পর কেউ একজন পেছন থেকে তার বোরকায় নর্দমার ময়লা লাগিয়ে দেন। এরপর এক ব্যক্তি তাকে বলেন, ‘আপা, আপনার বোরকার পেছনে দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা লেগে আছে। আপনি আমার সাথে আসুন। পাশেই মসজিদের পুকুরের ঘাটলায় গিয়ে বোরকায় লেগে থাকা ময়লা ধুয়ে নিতে পারবেন’।
সরল বিশ্বাসে বকুল বেগম মসজিদের ঘাটলার পাশে ওজুখানায় যান এবং ট্যাপ ছেড়ে বোরকা থেকে ময়লা পরিষ্কার করতে থাকেন। এসময় লোকটি তাকে বলেন, ‘হাতে থাকা ব্যাগটি ভিজে যাবে। ব্যাগটি আমার হাতে দিন’। বকুল বেগম ব্যাগটি তার হাতে দিয়ে বোরকা পরিষ্কার করছিলেন। হঠাৎ তাকিয়ে দেখেন লোকটি নেই। শুধু চেইন খোলা ব্যাগ পড়ে আছে। তাতে টাকা নেই।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সোহরাব আল হোসাইন জাগো নিউজকে বলেন, বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। ভুক্তভোগী ব্যক্তিকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রায় দুই বছর আগে একটি চক্র একই কায়দায় টাকা লুটে নিয়ে যেতো। তখন তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। আগের ঘটনাগুলো মাথায় রেখে আমরা অপরাধীদের আটক করতে অভিযান শুরু করেছি। আশা করছি দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপরাধীরা আইনের আওতায় আসবেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন বলেন, আমরা ঘটনাটি জানার পরই গুরুত্ব সহকারে দেখছি। সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আবুল হাসনাত মো. রাফি/এসআর