দেশজুড়ে

রাসিক মেয়রের নির্দেশে ভাঙা হলো সেই প্রাচীর

রাজশাহী নগরীর ছোট বনগ্রাম মাঝিপুকুর নিউ কলোনি এলাকায় রাস্তা দখল করে প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছিল আইনজীবী সোমা খাতুনের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নজরে আসার পর রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের নির্দেশে জমি মাপার পর সেই প্রাচীর ভেঙে ফেলা হয়েছে।

শুক্রবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. এমরানুল হক।

তিনি বলেন, সিটি মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে জাগো নিউজের প্রতিবেদনটি দেখে বিষয়টি আমলে নেন। তিনি সমস্যা সমাধানে রাতেই রাসিক, গৃহবন্দি ও অভিযুক্ত পক্ষের একজন করে সার্ভেয়ারসহ জায়গাটি মাপার নির্দেশ দেন।

‘আইনজীবী (সোমা খাতুন) যদি দলিলের চেয়ে অধিক জায়গা দখল করেন তবে প্রাচীর ভাঙতে আর গৃহবন্দি ওই দুই পরিবার যদি বেশি জায়গা দখল করে তবে তাদের বাড়ি ভেঙে আইনজীবীর প্রাপ্য বুঝিয়ে দিতে মেয়র নির্দেশ দেন। কিন্তু শুক্রবার সকাল থেকে পুরো জায়গা মেপে দেখেছি, আইনজীবী সোমা তার প্রাপ্যের অধিক জায়গা দখলে রেখেছেন। এ কারণে ওই প্রাচীর ভেঙে ফেলেছি।’

রাসিকের এ নির্বাহী কর্মকর্তা আরও বলেন, প্রাচীর ভাঙা নিয়ে যাতে পরবর্তীকালে কোনো গণ্ডগোল না হয় এ বিষয়ে চন্দ্রিমা থানা পুলিশকে মেয়র আগেই নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশের উপস্থিতিতে আজ প্রাচীর ভাঙার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া পরবর্তী সময়ে বিষয়টির স্থায়ী সমাধানের জন্য তিন পরিবারকেই রাসিকের মাধ্যমে পুরো জমি ভালোভাবে মেপে সমস্যা সমাধান করতে বলা হয়েছে।

এদিকে, অবরুদ্ধ মুরাদ শেখের স্ত্রী শেফালি বেগম বলেন, টানা একদিন আমরা খুব কষ্টে কাটিয়েছি। এই রমজান মাসে প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে বাইরে যেতে পারিনি। প্রাচীরে মই ব্যবহার করে বাইরে যেতে হয়েছে। বাচ্চারা তাদের ক্লাস-কোচিংয়ে যেতে পারেনি। সেখানে মেয়র সাহেবের কাছে খবর পৌঁছানোর পর তিনি আমাদের প্রতি দৃষ্টি দিয়েছেন। প্রাচীর ভেঙে যাতায়াতের রাস্তা করে দিয়েছেন। তার এমন উদ্যোগের ফলে আমরা যাতায়াতের রাস্তা পেলাম। মেয়রের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ভাষা নেই।

অপর গৃহবন্দি পরিবারের সদস্য মোসা. জান্নাতুন ফেরদৌসী বলেন, ভেবেছিলাম এমন প্রভাবশালী লোকেদের বিরুদ্ধে কেউ হয়তো কোনো পদক্ষেপ নেবে না। কিন্তু প্রতিবেদন প্রকাশের পর মেয়র আমাদের প্রতি দৃষ্টি দিয়েছেন। আমাদের তিনি গৃহবন্দি অবস্থা থেকে মুক্ত করেছেন। এজন্য তার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।

তবে জান্নাতুনের অভিযোগ, প্রাচীর ভাঙার সময় আমার ছোটভাই জহিরকে এক ব্যক্তি ডেকে নিয়ে যায়। সে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে বলে- তোর বোন (জান্নাতুন) অনেক বাড়াবাড়ি করে ফেললো। অনেক বাড় বেড়েছে, খুব দৌড়াদৌড়ি শিখে গেছে। তাকে সাবধানে থাকতে বলিস। একবার জেল খেটেছি, প্রয়োজনে আবারও জেল খাটবো। তার শেষ দেখে ছাড়বো।

তিনি বলেন, এ হুমকি শোনার পর থেকে আমি ও আমার পরিবার বেশ শঙ্কায় আছি।

এ প্রসঙ্গে চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমরান আলী বলেন, প্রাচীর ভাঙার সময় একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন এবং আইনশৃঙ্খলা যেন সুষ্ঠুভাবে বজায় থাকে সে লক্ষ্যে আমাদের চন্দ্রিমা থানা পুলিশও উপস্থিত ছিল। তাছাড়া আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আমি আমার দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে বাধ্য। বর্তমানে গৃহবন্দি ওই দুই পরিবার যাতায়াতের রাস্তা পেয়েছে।

ভুক্তভোগী এক পরিবারকে হুমকির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে সেজন্য সেখানে পুলিশ মোতায়েন ছিল এবং কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেনি। তাছাড়া এমন কোনো অভিযোগও আমার থানায় কেউ দেয়নি। তবে কেউ যদি আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে আইনের ব্যত্যয় ঘটায় তবে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফয়সাল আহমেদ/এমআরআর/এএসএম