সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত দুই সপ্তাহে জেলার চৌহালী উপজেলার ৫৫টি বাড়িঘরসহ বেশকিছু ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে পড়েছে মিটুয়ানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চরসলিমাবাদ সরকারি প্রাথমিক, বিনানুই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বহু ঘরবাড়ি। এ নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদী পারের মানুষ।
উপজেলার খাষকাউনিয়া গ্রামের আব্দুল লতিফ জানান, জোয়ারের কারণে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানি বাড়ায় মিটুয়ানী হইতে ভুতের মোড় পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার এলাকার কয়েকটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ফলে অনেক বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।
সলিমাবাদ গ্রামের রহিম মিয়া জানান, অসময়ে নদী ভাঙনের কারণে আমাদের মধ্যে আতঙ্ক রয়েছে। ইতোমধ্যে অনেকের বড়ি নদীতে চলে গেছে। প্রতি বছর ভাঙতে ভাঙতে বসত ভিটা জমিজমা আর কিছু থাকছে না। কিন্তু নদী ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করতে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
বাঘুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবুল কালাম মোল্লা জানান, চৌহালীর দক্ষিণাঞ্চল রক্ষায় ৪৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে কবে নাগাদ এটি অনুমোদন ও কাজ শুরু হবে সেটি জানি না। বর্ষায় আগেই কাজটি শুরু করলে হয়তো দক্ষিণাঞ্চলের বহু বাড়িঘর রক্ষা পেত।
চৌহালী উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক সরকার বলেন, গত কয়েকদিনে নদী তীরে বসবাসকারী অনেক বাড়ি ভেঙে বিলীন হয়ে গেছে। উপজেলা পরিষদ থেকে ভাঙন কবলিতদের যতোটুকু সম্ভব সহযোগিতা করছি।
এদিকে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান, যমুনা নদীর ভাঙন রক্ষায় অর্থ বরাদ্দ হলে কাজ শুরু করা হবে।
আরএইচ/জিকেএস