গত কয়েক মাস ধরে বৃষ্টির দেখা নেই। সেই সঙ্গে তীব্র দাবদাহে পুড়ছে সুন্দরবন ও সমুদ্র উপকূল মোংলা। গত কয়েকদিন ৩৮, ৩৯ ও ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিরাজ করছে এ এলাকায়। ফলে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সূর্যের প্রখর তাপে বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের জীবন। প্রচণ্ড রোদে ঘর থেকে বের হতে পারছে না শ্রমিক-দিনমজুরসহ খেটে খাওয়া মানুষ। সামান্য স্বস্তি ও একটু শীতল পরিবেশের জন্য সবাই ছুটছেন গাছের ছায়ায়। অতিরিক্ত গরমে শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ শরবত ও পানীয়ের দোকানে ভিড় করছেন। গরমে কুকুর, বিড়ালসহ বিভিন্ন ধরনের প্রাণী স্বস্তি খুঁজছে নিজস্ব আবহে।
প্রচণ্ড দাবদাহের কারণে মোংলার রাস্তাঘাটে অন্যান্য সময়ের তুলনায় মানুষ কম। তাই বন্দর ও পৌর শহরের দোকানপাট এবং রাস্তাঘাট অনেকটা ফাঁকা। খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না কেউ। শহরের মাদরাসা রোড ও রিজেকশন গলির খেটে খাওয়া দিনমজুরদেরও কাজে দেখা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে দিনমজুর আব্দুল কাইয়ূম, এনায়েত হোসেন ও খলিলুর রহমান জানান, আমরা তো খেটে খাই। গরমে কাজ করা যায় না, আবার বসেও থাকতে পারি না। সামনে ঈদ। কাজ না করলে খাবো কী?
মোংলা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত গরমে চিংড়ি মাছ অক্সিজেন ফেল করে মরে ভেসে উঠে। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে পুকুর ও মাছের ঘেরে গাছের ডাল পুঁতে রাখতে হবে। যাতে করে অক্সিজেন তৈরি হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. শেখ সিরাজুল ইসলাম বলেন, গরমে পানি স্বল্পতাসহ হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি রয়েছে। তীব্র দাবদাহে শিশু, বৃদ্ধ ও রোজাদারদের খুব জরুরি কাজ ছাড়া বাহির বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
আরএইচ/এএসএম