দেশজুড়ে

রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে ড্যানিশ রাজকুমারী

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন ডেনমার্কের রাজকুমারী ম্যারি এলিজাবেথ ডোনাল্ডসন। তিনি রোহিঙ্গাদের জীবনযাপন দেখেন এবং রাখাইন থেকে চলে আসার পেছনে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিবরণ শোনেন।

ক্যাম্পে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ১৪ এপিবিএন কমান্ডার (এসপি) নাইমুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে কুতুপালং ১৪ এপিবিএন আওতাধীন রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে আসেন ডেনমার্কের রাজকুমারী ম্যারি এলিজাবেথ ডোনাল্ডসন।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৫ সিআইসি অফিসে এলে তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। পরে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

এরপর তিনি রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৮-ওয়েস্ট ওয়াচ টাওয়ার থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দৃশ্য অবলোকন করেন। এরপর রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৬ পরিদর্শন করেন। এ ঘর থেকে ও ঘর ছুটে যান ড্যানিশ রাজকুমারী।

ক্যাম্প পরিদর্শনের সময় রোহিঙ্গা শিশুদের সঙ্গে ছবিও তোলেন রাজকুমারী। এরপর দুপুর সোয়া ১২টা থেকে সোয়া ২টা পর্যন্ত রোহিঙ্গা কো-অর্ডিনেশন সেন্টারে অবস্থান করে আরআরআরসি কমিশনার, ক্যাম্প সিআইসি ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

এরপর চারজন নারী ও পাঁচজন পুরুষ এফডিএমএনের সঙ্গে কথা বলে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতি মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অত্যাচারের কথা শোনেন।

পরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন রাজকুমারী ম্যারি এলিজাবেথ ডোনাল্ডসন। তিনি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সবুজায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং ক্যাম্পে ড্যানিশ রিফিউজি কাউন্সিলের অন্যান্য কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবহিত হন।

বিকেলে উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে ডেনিশ রিফিউজি কাউন্সিল পরিচালিত বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিদর্শন করেন ডেনমার্কের রাজকুমারী।

সেখান থেকে ফিরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন এবং বাংলাদেশ সরকারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে রাজকুমারী পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবিরের মানবিক কার্যক্রম নিয়ে মতবিনিময় করেন।

ড্যানিশ রাজকুমারীর রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনকালে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় এসএসএফ ও পিজিআর এবং ১৪ এপিবিএনের কয়েকশ অফিসার ফোর্স দায়িত্বপালন করেন।

সোমবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে একটি বেসরকারি বিমানে কক্সবাজারে পৌঁছান ড্যানিশ রাজকুমারী। বিমানবন্দরে তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ ও পুলিশ সুপার (এসপি) মো. হাছানুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্টরা।

বুধবার (২৭ এপ্রিল) সকালে হেলিকপ্টারযোগে সাতক্ষীরার উদ্দেশ্যে কক্সবাজার ত্যাগ করার কথা রয়েছে রাজকুমারীর।

সায়ীদ আলমগীর/এসআর/এএসএম