দেশজুড়ে

ঈদ কাটবে হাসপাতালের বেডে

রাত পোহালেই ঈদ। দিনটি উদযাপন করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন সবাই। কিন্তু এর মধ্যেও অসংখ্য মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ফরিদপুরে ৯৫ জন রোগী ঈদ উদযাপন করবেন হাসপাতালের বেডে। আনন্দের দিনটি হাসপাতালেই কাটাতে হবে তাদের।

জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ফরিদপুর সদর হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে ৯৫ জন রোগী। আর গত এক সপ্তাহে ভর্তি হয়েছেন ৮শ ৫৯ জন। যা গত কয়েক বছরের তুলনায় কয়েক গুন বেশি। শয্যা সংকুলান না হওয়ায় রোগীদের বারান্দায় থাকতে হচ্ছে।

শাকিল হোসেনের (৩০) বাড়ি মাগুরা সদর উপজেলায়। সোমবার (২ মে) সকালে ভর্তি হয়েছেন। হাসপাতালের বেডে জায়গা হয়নি তাই বারান্দাতেই চলছে তার চিকিৎসা। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, হঠাৎ করেই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হই। কিন্তু কিছুতেই বমি ও পায়খানা কমছে না। সঙ্গে রয়েছে পেটে ব্যথা।

শাকিলের সঙ্গে এসেছেন তার মা আফসানা বেগম। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, এবার আর বাড়িতে ঈদ করা হবে না। হাসপাতালের বেডে কেটে যাবে দিনটি। তবুও ছেলে সুস্থ হোক, সামনের বছর মজা করে ঈদ উদযাপন করবো।

ফরিদপুর সদর উপজেলার ধুলদী এলাকার বাসিন্দা ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত মো. আজিজ বেপারী জাগো নিউজকে বলেন, গত কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছি। পুরোপুরি ভালো হতে আরও সময় লাগবে। এবার আর ঈদের আনন্দ করা হবে না। হাসপাতালেই থাকতে হবে।

ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি পাঁচ বছরের শিশু মাহবুবা। তার সঙ্গে থাকা মা কুলসুম বেগম জাগো নিউজকে বলেন, মেয়ে অসুস্থ তাই এবার ঈদ হাসপাতালেই করতে হবে।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের সেবিকা (নার্স) গোলাপী বেগম বেগম জাগো নিউজকে জানান, প্রতিদিনই অসংখ্যক রোগী ভর্তি হচ্ছেন। জায়গা দিতে পারছি না। নিরুপায় হয়ে অনেকেই ফ্লোর, বারান্দায় সেবা নিচ্ছেন। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি সেবা নিশ্চিত করতে। রোগীর চাপে আমাদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। রোগীদের সঙ্গে ঈদ হাসপাতালেই করতে হবে।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. ছিদ্দীকুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, রোগীদের সেবা দিতে হাসপাতালে কর্মরতদের ঈদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। সদর হাসপাতালে অন্য রোগীদের সেবা সাময়িক স্থগিত করে সকল ওয়ার্ডে ডায়রিয়া রোগীদের সেবা চলছে দিন রাত। এই বিপুল সংখ্যক রোগীর সেবা দিতে নার্স ও চিকিৎসকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

এন কে বি নয়ন/এমআরএম